কলেজের সিনিয়রকে টাকা না দেওয়ায় আঙুল কেটে দিলেন জুনিয়রের

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৮ পিএম

বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রের ডান হাতের দুই আঙুল কেটে ফেলার ঘটনায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি গিয়ে দাবি করেছে তারই কলেজের ওপরের ক্লাসের দুই ছাত্র তার কাছে দাবি করা টাকা না পেয়ে তার মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে হাতের দুই আঙুল কেটে দিয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন প্রথমে ওই ছাত্র দাবি করে দোকানে ওষুধ কিনতে গেলে কয়েকজন তার মোবাইল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে আঙুল কেটে যায়। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তির পর পুলিশকে জানায় মেসের ভেতরে বাথরুমে ঢুকে সে নিজেই নিজের আঙুল কেটেছে।

জানা গেছে, ঘটনার শিকার আনোয়ারুল ইসলাম (২২) বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৫ম সেমিস্টারের ছাত্র এবং নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকউমর পাটারী পাড়ার দিনমজুর নজরুল ইসলামের ছেলে। সে বগুড়া শহরের চক ফরিদ এলাকায় ইঞ্জিনিয়ার ছাত্রাবাসে থাকত। তিনতলা ভবনের ওই ছাত্রাবাসে বাসার মালিক, তার মেয়ে ও এক ছেলেও পরিবার নিয়ে থাকেন। ওই ভবনের দুইটি তলায় ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছেন গাইবান্ধার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চু।

মেসের পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চু জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে আনোয়ারুল হাতের আঙুল কাটা অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তার রক্তাক্ত হাত দেখে চিৎকার শুরু করে। পরে মেসের অন্যান্য ছাত্র ও বাসার মালিক বের হন। সেসময় আনোয়ারুল জানায়, সামনের দোকানে ওষুধ কিনতে গেলে কয়েকজন যুবক তার মোবাইল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে আঙুল কেটে যায়। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে ওষুধের দোকান ও আশপাশে খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায় তেমন কোনো ঘটনার বিষয় কেউ জানে না, এমনকি রাস্তায় কোনো রক্তও নেই।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের পথে তার সঙ্গে থাকা অন্য ছাত্রদের বিষয়টি জানালে তাকে পুনরায় ওই ছাত্ররা জিজ্ঞাসা করে, তখন সে জানায় মেসের গেটে তার ওপরে হামলা হয়েছে। কিন্তু মেসের গেটেও রক্তের কোনো দাগ ছিল না। পরে বিষয়টি বনানী পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হয়।

সেসময় পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তার কাছে ঘটনা জানতে চাইলে সে পুলিশকে জানায়, বাড়ি থেকে কয়েক দফা স্মার্ট ফোন কিনে চেয়েও তা না পাওয়ায় সে হতাশা থেকে নিজেই মেসের ওয়াশ রুমে ঢুকে নিজেই নিজের আঙুল কেটে ফেলেছে।

এরপর চিকিৎসা নিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রামের বাড়ি ফিরে যায় আনোয়ারুল। সেখানে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের আনোয়ারুল জানান, তার কাছে একই কলেজের ওপরের ক্লাসের দুই বড়ভাই টাকা দাবি করেছিল। সে টাকা দিতে অস্বীকার করায় ঘটনার দিন মেসের ভেতরে গিয়ে তাকে ওয়াশ রুমে ঢুকিয়ে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ডান হাতের দুই আঙুল কেটে দেয়।

বিষয়টি সম্পর্কে তার নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার মা সাহারা খাতুন জানান, সেখানে ভয়ে সে হামলাকারীদের বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। বাড়ি ফিরে সে সত্য বিষয়টি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, ওই ঘটনার পরপরই পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন সে যে বক্তব্য দেয় তার ভিডিও রেকর্ড আছে। এরপর সে বাড়ি ফিরে হামলার দাবি করায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই ছাত্রাবাসে লাগানো সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ছাত্রের পরিবার এ বিষয়ে অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত