কক্সবাজারের উখিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাস্টার মুহিববুল্লাহর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার জানাজায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।
তিনি আরকান রোহিঙ্গা সলিউডারিটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান ছিলেন। লম্বা শিয়া ক্যাম্প ১ ইস্ট ব্লক ডি-৭ এর বাসিন্দা মৃত ফজল আহমদের ছেলে মুহিবুল্লাজ।
সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪.৫৫ মিনিটের সময় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১ ইস্ট সাবেক সেনাবাহিনীর খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র-২ আমবাগান চেকপোস্ট থেকে লম্বা শিয়া ওঠনির পশ্চিমে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪-এপিবিএন এর অধিনায়ক মো. নাঈমুল হক জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিকেলে রোহিঙ্গা নেতা মুহিববুল্লাহর নামাজে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এখনো ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নিহতের ভাই বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা করেছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তবে এব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোর্শেদ ও সংশ্লিষ্ট কেউ ফোন রিসিভ না করায় বিস্তারিত জানা যায়নি।
বুধবার রাত ৯টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ ইস্ট সংলগ্ন নিজ অফিসেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এই রোহিঙ্গা নেতা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে, ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় আসেন মুহিবুল্লাহ।
এ ছাড়া তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যাবিরোধী যে মহাসমাবেশ হয়েছিল, তা সংগঠিত করেন মুহিবুল্লাহ।
