১৪ ছাত্রের মাথার চুল কর্তন: তদন্ত কমিটিতে সাক্ষ্য দিলেন নির্যাতিতরা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৩ পিএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক ফারহানা ইসয়াসমিনের বিরুদ্ধে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি রবিবার সকাল থেকে দিনভর ৫০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে নির্যাতিত ১৩ ছাত্র কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে ও অসুস্থ এক ছাত্র হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী ১৫ শিক্ষার্থী, ৩ শিক্ষক, ৫ কর্মচারী ও ৫ জন অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া গত ৩ বছরে তার স্বেচ্ছাচারিতা ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সাক্ষ্য দেন বিভিন্ন বিভাগের আরো আট শিক্ষার্থী।

দিনভর রবির কান্দাপাড়ার প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে প্রত্যেককে পৃথক ভাবে ডেকে নিয়ে তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ বর্ণনা দিতে গিয়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র একেএম নাজমুল হোসাইন এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন এ ঘটনায় তার বক্তব্য পেশ করতে আসেননি। তিনি শেষ পর্যন্ত আসবেন কি না তা বলতে পারছি না।

পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের দাবি করায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন।

এ ঘটনায় নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক ছাত্র ঘুমের ওষুধ সেবনে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন ওই শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ও অনশনের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আশ্বাসে শনিবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই মুখপাত্র আবু জাফর ও শামীম হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটির কাছে আমরা বলেছি শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন নিজ হাতে কাঁচি দিয়ে ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন। এরপরেও যদি তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বরখাস্ত করা না হয়, তবে আমরা আবারও কঠোর আন্দোলন শুরু করব।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, এখনো তদন্তের কাজ শেষ হয়নি। শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রবির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, তদন্ত চলছে। এটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।

রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত