মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন: ভাঙনের মুখে বসতভিটা, ব্রিজ, ফসলি জমি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪০ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রহিমপুরে ধলাই নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে দেশের সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর, ব্রিজ, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে বর্ষাকালের বড় ধরনের ভাঙনের ভয়ে নদী তীরের অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

সোমবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর এলাকায় ধলাই নদীর তীরের কাছাকাছি অনেক পরিবারের বসবাস। মির্তৃঙ্গা সড়কে ধলাই নদীর ওপর নির্মিত স্টিলের ব্রিজের পূর্বদিকে ধলাই নদীর প্রথম খণ্ডাংশ ও পশ্চিমদিকে দ্বিতীয় খণ্ডাংশ ইজারা নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ৫-৭ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন।

আরও দেখা গেছে, নদীর বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনে নদীর তীর ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে। ফলে বেশ কয়েকটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। সেই সঙ্গে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে অতিরিক্ত শব্দ দূষণে দিশেহারা ধলাই নদীর আশপাশের তীরবর্তী বসতবাড়ির মানুষগুলো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনজীবনে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক হুমকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন মানছেন না ইজারাদাররা। আইন অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা থাকলে সে এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বালু উত্তোলন করতে হবে। অথচ আমাদের এলাকায় ব্রিজের এক কিলোমিটারের মধ্যেই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরের বেশ কয়েকটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

ধর্মপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম হিমেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তীরবর্তী মানুষ আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারি না। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন শুরু হলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুম চলে গেলে তার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সুমাইয়া আক্তার এ বিষয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন মেনে ইজারাদারকে নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে। রহিমপুরের অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজারের উপসহকারী প্রকৌশলী সজিব পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, রহিমপুরে ধলাই নদীর তীর ভেঙে পড়ার মূল কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে তীর থেকে বালু উত্তোলন। উপজেলা প্রশাসন যদি এ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ না করে তবে নদীর তীর ভাঙা রোধ করা অসম্ভব।

বর্তমানে তহবিল কম থাকায় এ এলাকার তীরে বাঁধ নির্মাণের কাজ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে চাহিদা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত