শরীয়তপুর যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আন্তজেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ চৌকিদার ও জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাচ্চু ব্যাপারীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চারজন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১ থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এতে উত্তর পালং বাজার, শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড ও শরীয়তপুর মডেল টাউন এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও বন্ধ ছিল। উভয় পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল তিন বছরের জন্য। ১৭ বছর অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি আর হয়নি। মঙ্গলবার জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা। দুই পক্ষের লোক সভায় আসা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থায় গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। আন্তজেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ চৌকিদারের সমর্থকেরা অর্ধশতাধিক ককটেল ফাটিয়ে সংঘর্ষ বাঁধাতে চেষ্টা করে।
এ সময় বাচ্চু ব্যাপারীর সমর্থক জাকির মাদবর (৩৫), রাজ্জাক ব্যাপারী (৪৫), লিটন ছৈয়াল (৩০) ও মাওলাত মাদবর (৩৫) ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন।
উভয় পক্ষে লোকজনের হাতে বাঁশ, ডাল, টেটা, হকিস্টিক, কাঠের বড় বড় লাঠিসহ রামদা, সেনদা, লোহার রড দেখা গেছে।
জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাচ্চু ব্যাপারী বলেন, আজ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা। সেই সভা উপলক্ষে নেতাদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ ফারুক চৌকিদারসহ তার লোকজন অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমার লোকজনের ওপর হামলা করে। আত্মরক্ষার জন্য আমরা পুলিশের সঙ্গে অবস্থান করি। এ সময় আমার লোকজনের ওপর ককটেল মারে। তখন আমার পক্ষের চারজন লোক আহত হয়।
এদিকে শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ চৌকিদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, দুইটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২১ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
