নাতির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ সাজা চান আবরারের শতবর্ষী দাদা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৩ পিএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার দুই বছর আজ। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখে যেতে চান নিহত আবরার ফাহাদের শতবর্ষী দাদা মো. আব্দুল গফুর বিশ্বাস।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদে যোহর নামাজ শেষে আবরার ফাহাদের দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস নাতির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করেন।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ সবাই বলেছেন আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি। মৃত্যুর আগে আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর দেখে যেতে চাই।’

হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনও। তিনি কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ বাসায় আবরারের ব্যবহৃত জামা কাপড়, বইপত্রসহ রেখে যাওয়া জিনিসপত্রের ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে ফেরেন প্রিয় সন্তানকে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সবাই দেখেছে আমার ছেলে আবরারকে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। দুই বছর অতিবাহিত হলেও আমার ছেলের হত্যাকারীরা এখনো জীবিত রয়েছে। অতি দ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকর দেখতে চাই।’

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিচারকাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। বিচারকাজ বিলম্ব হওয়ায় অনেকেই এই মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে পারে। তাই অতি দ্রুত সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটে শেরে-বাংলা হলের একটি কক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে নৃশংসভাবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করে। পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে তার লাশ উদ্ধার হয়।

ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ‘শিবির সন্দেহে’ তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত