প্রমোদতরীতে মাদক কাণ্ডের পর সারা ভারতের মিডিয়ার নজরে রয়েছেন শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান। বর্তমানে তিনি নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) হেফাজতে আছেন।
আরিয়ানকে নিয়ে মিডিয়ার ‘বাড়াবাড়ি’র মাঝে অনেক ঘটনায় চাপা পড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে। এও বলা হচ্ছে ৩ হাজার কেজি হেরোইন আটকের মামলা থেকে নজর সরাতে এ কাণ্ড।
সম্প্রতি আদানি গোষ্ঠী পরিচালিত গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে প্রায় ৩০০০ কিলোগ্রাম হেরোইন উদ্ধারের মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে এনসিবি।
কংগ্রেস আগেই দাবি করেছিল, মুন্দ্রা বন্দরে মাদক উদ্ধারের ঘটনা থেকে নজর ঘুরিয়ে দিতেই এনসিবির প্রমোদতরী অভিযান। এই অভিযোগের প্রচ্ছন্ন তীর ছিল বিজেপির দিকেই। বুধবার সেই সুরে এনসিপির মুখপাত্র তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক বলেছেন, ‘‘পুরো ঘটনাটা সাজানো।’’ বলিউডকে কালিমালিপ্ত করতে এবং মহারাষ্ট্রের বিরোধী সরকারকে প্যাঁচে ফেলতে বিজেপি এনসিবিকে দিয়ে এ সব করাচ্ছে।
তিনি বলেন, শাহরুখ খানকে পরবর্তী নিশানা করা হবে বলে অন্তত এক মাস আগে সাংবাদিকদের কাছে খবর ছিল। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরিয়ানের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া এক ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী।
গ্রেপ্তারের দিন প্রমোদতরীতে এনসিবির সঙ্গেই ছিলেন মণীশ ভানুশালী নামে ওই ব্যক্তি। অথচ এনসিবি জানিয়েছে, তিনি তাদের দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নন। তা হলে ওই ব্যক্তি কে?
নবাবের দাবি, তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। তবে মণীশ জানান, অভিযোগ ঠিক নয়, বিজেপির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগ নেই।
প্রশ্ন উঠেছে আরেক ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও। গ্রেপ্তারের পরে আরিয়ানের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন ওই ব্যক্তি। টুইটারে জনৈক আইনজীবী ওই ব্যক্তির ছবি পোস্ট করে দাবি করেছেন, তার নাম এসকে গোভাসাই। পেশায় ‘প্রাইভেট ডিটেকটিভ’। প্রশ্ন উঠছে, এনসিবির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিরা কীভাবে ওই অভিযানে অংশ নিতে পারেন।
এনসিবি অবশ্য ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, প্রমোদতরীতে মাদক পার্টির আগাম তথ্যটুকু শুধু তাদের কাছে ছিল। সেখানে আরিয়ান খানের উপস্থিতির কথা তারা জানত না। শনিবার রাতে জাহাজে উঠে আরিয়ান ও তার বন্ধুদের সেখানে দেখতে পায় তারা। এর মধ্যে বলিউডকে নিশানা করার কোনো অভিসন্ধি খুঁজতে যাওয়া অমূলক।
