তুরাগে নৌকাডুবি: চার শিশু ও এক নারীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩২ পিএম

সাভারে তুরাগ নদে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার শিশু ও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, নৌকা ডুবিতে ৭ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার পর্যন্ত এক নারী ও চার শিশুসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও দুজন নিখোঁজ থাকলেও রাত হয়ে যাওয়ায় আলোক স্বল্পতার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ২ জনের উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।

এর আগে শনিবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে সাভারের আমিনবাজারে তুরাগ নদে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা কেবলার চর থেকে গাবতলীর দ্বীপনগর যাওয়ার সময় নদীর মাঝপথে পৌঁছালে উভয় দিক থেকে বালুভর্তি দুই বাল্কহেড যাত্রীবাহী নৌকাটির ওপর উঠে যায়। এ সময় ট্রলার থেকে কেউ কেউ সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে পারলেও ৫ শিশু ও দুই নারী নিখোঁজ হন।

নিখোঁজরা মূলত সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। কয়লার কাজ চলাকালীন সময়ে তারা সিলেট থেকে এই এলাকায় এসে কাজ করত। সকলেই আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকত।

নৌকা ডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা কাবিল হোসেন (২৬) জানান, ভোর সাড়ে ৫ টায় বড়দেশী গ্রাম হয়ে কেবলারচর থেকে গাবতলীর দ্বীপনগরে কাজের জন্য প্রতিদিনের মতো ট্রলারযোগে গাবতলীর উদ্দেশে রওনা দিই। তুরাগ নদীর মাঝখানে আসলে বালুভর্তি বাল্কহেড দ্রুতগতি ট্রলারে সামনে চলে আসে। এ সময় ট্রলারটি একটু পেছনে চলে আসে। তখন পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি বালু ভর্তি বাল্কহেড ধাক্কা দেয়। এ সময় সামনে থাকা বাল্কহেডটি ওপর উঠে গেলে আমাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। আমি ছেলে সায়েমকে নিয়ে কোনোরকমে সাঁতরে তীরে উঠি।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. প্রিন্স হাওলাদার জানান, যাত্রীবাহী ট্রলারটিতে শিশুসহ মোট ১৮ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই দিনমজুর শ্রমিক। ট্রলার ডুবে গেলে ১১ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ রয়েছেন ৭ জন। খবর পেয়ে সাভার ও হেডকোয়ার্টার ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি সাভার থানা ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ পরিচালক মনি শর্মা জানান, নিখোঁজ ৪ শিশু ও ১ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধার করতে রবিবারও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। নৌ বাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করেছেন।

ঢাকা বিভাগের নৌ পুলিশের সিনিয়র পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম ফরিদুজ্জামান ফরিদ জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দুটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ পক্ষ থেকে যুগ্ম পরিচালক ফজলুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান বিআইডব্লিউটিএ এর যুগ্ম পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ট্রলারে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। আমিনবাজার নৌ পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত