লাগাতার নিজ দল বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর দলটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি থেকে বাদ পড়েছিলেন বরুণ গান্ধী। কিন্তু তারপরও রবিবার ফের টুইটারে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেল ভারতের উত্তরপ্রদেশের পিলভিটের এই বিজেপি সাংসদকে। রবিবার সকালে তিনি অভিযোগ করলেন, সম্প্রতি ভারতের জাতীয় রাজনীতিকে সরগরম করে তোলা উত্তরপ্রদেশের লাখিমপুরে হিন্দু বনাম শিখ দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই বরুণ দাবি করেছিলেন, লাখিমপুরে যে গাড়ি দিয়ে কৃষকদের পিষে দেওয়া হয়েছে, সেই গাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করা হোক। লাখিমপুর কাণ্ড নিয়ে যোগী সরকারকে একাধিক চিঠিও লিখেছেন বরুণ। যাতে সরকার তথা পুলিশ প্রশাসনকে রীতিমতো তুলোধোনা করা হয়েছে। সেই সুর রয়েছে আজকের টুইটেও।
বরুণ লেখেন, ‘লাখিমপুর খেরিকে হিন্দু বনাম শিখ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কেবল অনৈতিক ও মিথ্যা কাহিনিই নয়। এই ধরনের মিথ্যার ধাক্কায় ফের সেই ক্ষতকে জাগিয়ে তোলাটা বিপজ্জনক কাজ, যে ক্ষত সারিয়ে তুলতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লেগেছে। আমরা জাতীয় ঐক্যের থেকেও রাজনৈতিক ফায়দাকে কখনওই বেশি গুরুত্ব দিতে পারি না’।
লাখিমপুর খেরির অশান্তির মূল অভিযুক্ত আশিস মিশ্রকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। যদিও তাকে নিজেদের হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ। সোমবার সেই সংক্রান্ত শুনানি হওয়ার কথা।
এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের এক প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চায়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার আবেদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে হলফনামা জমা দিতে চান কংগ্রেস প্রতিনিধিরা।
গত রবিবার ভারতের কেন্দ্রীয় জুনিয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে উত্তর প্রদেশের লাখিমপুর খেরিতে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয়। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেখানে। সংঘর্ষে আরও ৪ জন প্রাণ হারান।
লাখিমপুরের ওই ঘটনার ভিভিও টুইট করে বরুণ গান্ধী লিখেছিলেন, ‘লাখিমপুর খেরিতে যেভাবে কৃষকদের ইচ্ছাকৃতভাবে পিষে দেওয়া হল, সেটা যে কোনও ব্যক্তির আত্মায় আঘাত করতে বাধ্য। পুলিশের উচিত এই ভিডিওটি দেখে গাড়ির মালিকদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা’।
