কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। দুই পক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একপক্ষ রবিবার ঢাকায় সভা করে তারা প্রার্থীদের ওই তালিকা তৈরি করেছে। আরেক পক্ষ তিতাস উপজেলায় বসে তৃণমূল, অর্থাৎ ইউনিয়ন কমিটির কাছ থেকে প্রার্থী তালিকা জমা নিয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় ইউপি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জামাদানের শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ অক্টোবর, প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ অক্টোবর এবং তিতাস উপজেলা ৯টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ ১১ নভেম্বর।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর অনুসারীরা ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা তৈরির জন্য রবিবার ঢাকায় সাংসদের দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে জরুরি তলবি বর্ধিত সভায় প্রার্থী বাছাইয়ে তাদের মতামত দিয়ে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেন বলে আয়োজকরা জানান।
মুন্সি মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও তিতাস আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া, সহসভাপতি শাহ আলম শান্তি, রাজা মিয়া সওদাগর, ফজলু মিয়া প্রমুখ।
সেখানে বক্তারা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের প্রার্থী বাছাইয়ে তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমরা বেশিরভাগ সদস্য উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু এই সভাপতি ও সেক্রেটারি কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক সভা ছাড়া স্থানীয় কিছু ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিদের বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রভাবিত করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করেছেন।
তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তৃণমূলের নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা ডেকে রেজুলেশন করে প্রার্থী তালিকা আমাদের কাছে জমা দিয়েছেন। ঢাকায় বসে যারা দলীয় গঠনতন্ত্রবিরোধী সভা করতে পারেন, তারা অনেক কিছুই বলতে পারেন।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগ সভাপতি ম. রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কে কোথায় সভা করল সেটা দেখার বিষয় না, সভা নিয়ে দলীয় কোনো অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি দেখব।
