গৃহকর্মী হত্যা মামলার আসামি নেত্রকোনার বারহাট্টার সিংধা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মুর্শেদ কাঞ্চনকে ফের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে এলাকার নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সোমবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বোর্ড উপজেলার সিংধা ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরপরই উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলার নেতা কর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের অনেকে গৃহকর্মী মারুফা হত্যার সংবাদের কপি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েও প্রতিবাদ জানান।
এদিকে বিতর্কিত এই চেয়ারম্যানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। ক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা কাঞ্চন চেয়ারম্যানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বোর্ডের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে চেয়ারম্যানের বিগত সময়ের নানা অপকর্মের প্রমাণাদিও জমা দেন তারা।
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, উপজেলা থেকে আমরা কাঞ্চন চেয়ারম্যানসহ সাতজনের নাম পাঠিয়েছি। তবে কাঞ্চন চেয়ারম্যান যে, ‘হত্যা মামলার আসামি’ এ কথাটি তার নামের পাশে বিষয়টি লিখে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৯ মে বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মুর্শেদ কাঞ্চনের মোহনগঞ্জ বাসার গৃহকর্মী কিশোরী মারুফা আক্তার (১৪) আত্মহত্যা করেছে বলে চেয়ারম্যান নিজেই লাশ নিয়ে হাসপাতালে যান। থানায় খবর না দিয়ে লাশ হাসপাতালে নিয়ে গেলে পুলিশ খবর পেয়ে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে চেয়ারম্যানের ছেলের ঢাকার বাসায় থাকা গৃহকর্মী মারুফার মাকে খবর দেয় পুলিশ। এ সময় লাশের গায়ে স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখে এলাকাবাসী ও মারুফার মা মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠে। পরদিন লাশের ময়নাতদন্ত শেষে চেয়ারম্যানের ভয়ে মারুফার লাশ নিজ বাড়ি বারহাট্টায় না নিয়ে নানার বাড়ি কলমাকান্দায় দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে মামলা করতে গেলে থানার ওসিকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার কাগজে সই করতে মারুফার মাকে চাপ দেন কাঞ্চন চেয়ারম্যান। পরে ৯৯৯ এ কল করলে ১১ মে জেলার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী সুনসীর হস্তক্ষেপে হত্যা মামলা নেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি আবদুল আহাদ খান।
রাতেই চেয়ারম্যান কাঞ্চনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১২ মে কোর্টে সোপর্দ করলে একদিন বাদেই ১৪ মে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।
এর আগেও সরকারি গাছ কাটা, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর নকল করাসহ নানা অনিয়মের কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর লিখিত চিঠির মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করে এই চেয়ারম্যানকে।
গৃহকর্মী মারুফাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে চেয়ারম্যানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
‘কাঞ্চন চেয়ারম্যান একজন ধর্ষক, হত্যাকারী, এ দানবকে রুখতে হবে’
