‘বীর’ সিনেমায় কাজ করেও স্বীকৃতি পাচ্ছেন না শিল্প নির্দেশক দীপু

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৪ পিএম

‘বীর’ সিনেমায় কাজ করেও প্রাপ্য স্বীকৃতি মিলছে না শিল্প নির্দেশক দীপু বাউলের। কাজী হায়াত পরিচালিত এই ছবির শিল্প নির্দেশকের অভিযোগ, কাজ তিনি করলেও ক্রেডিট লাইনে তার নামের পাশে যুক্ত করা হয়েছে অপর একজনের নাম। শুধু তাই নয়, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কলাকুশলীদের নামের তালিকা জমা দিলেও সেই তালিকায় স্থান মেলেনি দীপুর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীপু বলেন, ‘কাজ করলাম আমি আর অ্যাওয়ার্ডের জন্য জমা পরল অন্য একজনের নাম, আমি হতবাক। আমি খুব ভালো কাজ করি এমনটা মনে করি না বা সহসাই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার মতোও কিছু হয়তো আমি পারি না। কিন্তু যেটুকু পারি সেটার স্বীকৃতি তো আশা করতেই পারি।’

কী ঘটেছিল দীপুর সঙ্গে? বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বীর চলচ্চিত্র শুরুর আগে শ্রদ্ধেয় বড় ভাই প্রযোজক ইকবাল ভাই আমাকে আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতে বললেন এবং শাকিব ভাইও সাপোর্ট দিয়েছিলেন। আমার জন্য সেটা ছিল খুবই আনন্দের। কারণ সেই ছবির পরিচালক ছিলেন শ্রদ্ধেয় কাজী হায়াৎ স্যার এবং প্রধান চরিত্রে ছিলেন প্রিয় শাকিব ভাই। পুরো চলচ্চিত্রে আমি যেটুকু পারি আমার সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছি। আমি আমার সহকারীদের নিয়ে সম্পূর্ণ সিনেমার কাজ শেষ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত জানতাম আমিই এই ছবির একমাত্র আর্ট ডিরেক্টর। কারণ পুরো ছবির কাজ হয়েছিল পুবাইলে এবং এখানে আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে সেটে শুধু আমিই ছিলাম, আমি অন্য কাউকে এখানে দেখিনি বা কেউ এখানে কাজ করেনি। তবে এর মধ্যে ২টা দৃশ্যের এবং একটা গানের সেট নির্মাণ হয়েছিল বিএফডিসিতে এবং সেই সেট নির্মাণ করেছিলেন এফডিসির সেট ডিরেক্টর ফরিদ আহমেদ। কিন্তু চলচ্চিত্রটির পুরো কাজ শেষ হওয়ার পর যখন ট্রেইলার রিলিজ হয় তখন দেখি ক্রেডিট লাইনে আমার নামের সাথে ফরিদ আহমেদের নাম যুক্ত করা। আমি যারপরনাই অবাক। কারণ আমার কাজ করা ছবিতে আমার নামের সাথে অন্যজনের নাম যুক্ত করার ব্যাপারে কেউ আমার সাথে কোন ধরনের কথা পর্যন্ত বলেনি। আমি ব্যাপারটা যখন প্রযোজক ইকবাল ভাইকে জানালাম তখন তিনি বললেন যে মূল ছবিতে এটা ঠিক করে দেয়া হবে এবং শুধু আমার নামই যাবে। সাথে এটাও বললেন এই ছবির এডিটর তৌহিদ ভাইকে জানাতে তিনি যেন এটা ঠিক করে দেন। আমি তার কথামতো তৌহিদ ভাইকে জানালাম এবং তিনি বললেন যে এটা তিনি ঠিক করে দেবেন। এরপর বাস্তবিক অর্থে আমি আর কোন খোঁজ নিইনি যে ছবির ক্রেডিট লাইনে আসলেই সেটা ঠিক করা হয়েছে কিনা। কিন্তু কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম যে বীর চলচ্চিত্রটি অ্যাওয়ার্ডের জন্য জমা দেয়া হয়েছে। তখন ইকবাল ভাইকে কল দিয়ে জানালাম যে বীর অ্যাওয়ার্ডের জন্য জমা দেয়া হয়েছে কিন্তু আমার কাছে তো কেউ কোন কাগজপত্র চায়নি। তখন ভাই বললেন যে সেন্সর বোর্ডে গিয়ে তার নাম বলে কাগজ জমা দিয়ে আসতে। সেখানে গিয়ে যখন আমার কাগজ জমা দেয়ার কথা বললাম তখন তারা কাগজপত্র বের করে দেখাল যে কলাকুশলীর তালিকায় আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে ফরিদ আহমেদ এবং আমার নাম আছে কিন্তু সেখান থেকে অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন দেয়া হয়েছে শুধু ফরিদ আহমেদ কে, আমার নাম বিবেচনায় নেয়া হয়নি। মানে এই ছবি যদি আর্ট ডিরেকশনে অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয় তবে অ্যাওয়ার্ড পাবে শুধু ফরিদ আহমেদ, আমি পাবনা।’

দীপু আরও জানান, ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এর আগেও অন্যদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন ফরিদ আহমেদ। দীপু বলেন, ‘আমি এটা জানার পর আমার গুরু রহমতুল্লাহ বাসু ভাইকে জানালাম। তারও ১টা ছবি জমা পরেছে এবং সেই ছবিতেও মূলত আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন বাসু ভাই সেট নির্মাণ করেছেন জনাব ফরিদ আহমেদ। সেখানেও বাসু ভাইকে কোনোরকমভাবে অবগত না করেই বাসু ভাইয়ের সাথে ফরিদ আহমেদের নাম জুড়ে দেয়া হয়েছিল আর আমরা সেটা জানতে পারি ছবি রিলিজের পর। সেই ছবিতে আমি বাসু ভাইয়ের প্রধান সহকারী ছিলাম। তো আমার ঘটনা জানার পর বাসু ভাই বললেন যে তার ছবির ক্ষেত্রে কি হয়েছে দেখা যাবে কিনা। সেই ছবির খোঁজ করেও দেখা গেল একই ঘটনা। কলাকুশলীদের তালিকায় বাসু ভাই এবং ফরিদ আহমেদের নাম আছে কিন্তু অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রডাকশন হাউস থেকে নমিনেশন দেয়া হয়েছে শুধু মাত্র ফরিদ আহমেদের নাম।’

সর্বশেষ দীপু প্রশ্ন করেছেন এগুলো ইচ্ছাকৃত কিনা? দীপু বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো কি অনিচ্ছাকৃত ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত ভুল নাকি কারও কারসাজি। প্রডাকশন হাউস ভিন্ন হলেও কাজটা তো একই হয়েছে। আর এভাবে অন্যজনের সাথে নাম জুড়ে দেবার কাজটা ফরিদ আহমেদ সাহেব এবারই প্রথম করেননি। গত বছর জাকির হোসেন রাজু স্যারের মনের মতো মানুষ পাইলাম না চলচ্চিত্র টি আর্ট ডিরেকশনে অ্যাওয়ার্ড পায়। সেখানে শুরু থেকে আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন রহমতুল্লাহ বাসু ভাই। সেই ছবিতেও সেট নির্মাণ করেন জনাব ফরিদ আহমেদ। (সেই ছবিতেও আমি বাসু ভাইয়ের প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করেছি।) যেখানে তার নাম যাওয়ার কথা সেট নির্মাতা হিসেবে সেখানে তার নাম বাসু ভাইয়ের নামের সাথে আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে দেয়া হয়। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পরিচালক রাজু স্যার বলেন যে তিনি ফরিদ আহমেদের নাম আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে দিতে চাননি। কিন্তু স্যারকে অনেক রিকোয়েস্ট করায় হাতেপায়ে ধরায় মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে ফরিদ আহমেদের নামও দিয়ে দেন। সেই ছবিতে যৌথ ভাবে পুরস্কার পান রহমতুল্লাহ বাসু ভাই এবং জনাব ফরিদ আহমেদ। গত বছর তাও দুইজনের নাম জমা পরেছিল তাই দুইজন পুরস্কার পেয়েছেন। এবার তো আমার কাজ করা ছবি থেকে আমার নাম বাদ, বাসু ভাইয়ের কাজ করা ছবি থেকে বাসু ভাইয়ের নাম বাদ শুধু তার একার নামই রয়ে গেছে।’

এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দীপু বলেন, ‘এবার আর চুপ থাকা ঠিক মনে হয়নি। আমার মনে হয়েছে ব্যাপারটা সবাইকে জানানো উচিত। নয়তো একদিন আমার নামের মত আমিও হারিয়ে যাব। কিন্তু আমি হারাতে চাইনা, আমি এই চলচ্চিত্র শিল্পে আমার কাজ দিয়ে থাকতে চাই। আমি আবারও বলছি আমি দাবি করিনি যে আমি খুব ভালো কাজ করেছি বা অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার মতো কাজ করেছি কিন্তু যেটুকু করেছি সেটুকুরই স্বীকৃতি চাই। আমি আমার কাজে পুরস্কৃত নাও হতে পারি কিন্তু প্রতিযোগিতায় তো থাকতে পারি। সেই অধিকার থেকে কেন আমাকে বঞ্চিত করা হবে? আমার কাজের স্বীকৃতি অন্য কেউ নিয়ে যাবে এটা নিন্দনীয়। দায়টা যারই হোক আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এর প্রতিকার দাবি করছি।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রযোজক ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে ‘বীর’ সিনেমার পরিচালক কাজী হায়াত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এটা প্রযোজনা সংস্থা থেকে ভুলটা হয়েছে। এই মুহূর্তে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই। কারণ, আমি এখনো প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলে একটা মীমাংসায় আসতে হবে। দেখা যাক কী হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত