আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বিরোধে একের পর এক সংঘর্ষ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৪ এএম

নতুন কমিটি প্রকাশের পর থেকে দীর্ঘ তিন মাস ধরে নিজ ঘরের আগুনে পুড়ছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। নিজ দলের গ্রুপিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মাঠ পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই ঘটছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সড়ক অবরোধ এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা। এসব ঘটনায় আহতসহ পাল্টাপাল্টি মামলায় ঘরছাড়া হয়েছেন অন্তত তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, পাকুন্দিয়া আওয়ামী লীগ এখন মূলত তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি সদ্য সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু, অন্যটি সাবেক সাংসদ এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন এবং আরেকটি গ্রুপ বর্তমান সাংসদ ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে ঘিরে। দলীয় একটি সূত্র জানায়, গত ২২ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের সভায় অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ২৮ জুলাই এক চিঠির মাধ্যমে সোহরাব উদ্দিনকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিটি গঠন করতে বলা হয়। এর আলোকে গত ৯ সেপ্টেম্বর ৬৭ সদস্যের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। এ কমিটি বাতিলের দাবিতে অন্য দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে আন্দোলন করছে।

রেনু ও নূর মোহাম্মদ গ্রুপ চাচ্ছে যে কোনো মূল্যে কমিটি বাতিল করা, আর সোহরাব উদ্দিনের গ্রুপ চাচ্ছে যে কোনো মূল্যে নতুন কমিটি টিকিয়ে রাখা।

গত বৃহস্পতিবার বর্তমান ও সাবেক সাংসদের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। গত শনিবার দুপুরে কমিটি বাতিলের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে বর্তমান সাংসদের সমর্থকরা। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার হর্শি বাজারে সংঘর্ষে দুই জন আহত হয়।

এসব ঘটনায় তিন গ্রুপের পৃথক তিনটি মামলায় চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। জানতে চাইলে বর্তমান সাংসদ ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘নেতাকর্মীদের অভিযোগ এ কমিটি নিয়ে বাণিজ্য হয়েছে। তাই মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা তা মেনে নিতে পারছেন না।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, ‘এটা একটি বাণিজ্যিক কমিটি হয়েছে। তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি চাই।’ অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘জেলা কমিটি যোগ্য নেতাকর্মীদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। পদের লোভে কয়েকজন নেতা সুষ্ঠু রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত