ত্রিশালে দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহতের ঘটনায় নরসিংদী থেকে চালক গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৮ পিএম

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার চেলেরঘাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী এক বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ১০-১২ জনকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও ২ জন মারা যান।

বিষয়টি তদন্ত করে দুর্ঘটনার দুই দিন পর নরসিংদী জেলা থেকে অভিযুক্ত বাস চালককে আটক করেছে সিআইডি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে বাহিনীটি।

জানা যায়, এ দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার সড়ক পরিবহন আইনে ওই বাস ও ড্রাম ট্রাকের অজ্ঞাতনামা চালকদের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন মো, তাজ উদ্দিন (৩৮)। এরপর এলআইসি’র একাধিক চৌকস টিম দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার গোতাশিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্যাপার এম. এ রহিম বাসের চালক মো. আনসার আলী (৩৬)-কে আটক করা হয়।

আনসার আলী জানান, গত শনিবার মহাখালী টার্মিনাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। একই সময়ে একই স্থান থেকে সৌখিন পরিবহনের একটি বাস প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

প্রায় সমস্ত রাস্তায় তারা প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালাতে থাকে। এরপর ত্রিশাল থানাধীন চেলেরঘাট এলাকায় পৌঁছালে প্রতিযোগিতার একপর্যায়ে স্যাপার এম. এ রহিম পরিবহন দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে রাস্তায় পার্কিংরত বিকল ড্রাম ট্রাকটিতে সজোরে ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই চালক আনসার আলী দ্রুত পালিয়ে যান।

ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২ শিশু, ২ নারী ও ৩ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের চার সদস্য ফজলুল হক (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৫), তাদের মেয়ে মোছা. মারিয়া আক্তার আজমিনা (৮) ও ছেলে মো. আমানুল্লাহ (৫)। বাকিরা হলেন  ফজলুল হকের শ্বশুর নজরুল ইসলাম (৫৫), মো. সিরাজ (৩৫) ও হেলেনা (৪০)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত