সরকারের অপকর্ম আড়াল করতে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি: মির্জা আব্বাস

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:৪৩ পিএম

আমার নেত্রী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এ দেশে তিনবার রোজা ও পূজা একসঙ্গে পালন হয়েছে। তখন তো কোনো দাঙ্গা হয়নি। একে অপরের ধর্মকে আমরা মেনে নিয়েছি— বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

আরও বলেন, সরকার হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সৃষ্টি করে বিশ্ববাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করছে এই দেশ একটি সন্ত্রাসী দেশ। এ দেশে বিদেশি সাহায্য দরকার। আসলেই কি তা? না।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলায় ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখছেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আসল কথা হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে, দুর্নীতি, লুটপাটসহ সরকারের বিভিন্ন অপকর্ম আড়াল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে সরকার এই সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমার এলাকায় ২৫ ভাগ হিন্দু ভোটার বসবাস করে। কেউ বলতে পারবে না যে এই এলাকায় কোনো দিন দাঙ্গা হয়েছে। যখন বাবরি মসজিদ ভাঙে আমি মির্জা আব্বাস নিজে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তাদের পাহারা দিয়েছি।

আরও বলেন, এই হাঙ্গামার অনেকগুলো কারণ আছে। যদি হিন্দুরা চলে যায় সেই সম্পত্তি আওয়ামী লীগের লোকেরা দখল করবে। আর যদি তারা থেকে যায় মিথ্যাচার করে সেই ভোটটা তারা পাবে। কিন্তু হিন্দু ভোটাররা সেটা করেন না। তা করলে হিন্দু ভাই-বোনদের ভোটে আমরা নির্বাচিত হতাম না।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আমার নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন ক্ষমতায় থাকলে দেশে কোনো অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতো না। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় পেঁয়াজ, তেল, লবণ সবকিছুর ঊর্ধ্বগতি। ভুতুড়ে পানির বিল, ভুতুড়ে গ্যাস বিল। এই সরকার বাংলাদেশে লুটপাটের একটা কারখানা খুলে বসেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে থাকলে এ লুটপাট বন্ধ হয়ে যেত।

বিএনপির এ নেতা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বাকশালের পেট চিরে আওয়ামী লীগের জন্ম দিয়েছিল। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার লাইসেন্স দিয়েছিল বিএনপি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপনাদেরকে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিল। অথচ সেই সুযোগটাকে অপব্যবহার করে আজকের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আপনারা কারাগারে আটকে রেখেছেন। তাকে চিকিৎসার সুযোগটাও দেওয়া হচ্ছে না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এসএস জিলানীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের পরিচালনায় মিলাদ মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনু, যুবদল দক্ষিণের আহ্বায়ক  গোলাম মাওলা শাহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত