হাজীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করেছেন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির সংসদ সদস্য মেজর (অ.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেন।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার অভিযোগে হাজীগঞ্জে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি মন্দিরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলতে পাঁচজন নিহত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মুনিসহ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় নেতা পরিদর্শনে আসেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন ও সহায়তা নিশ্চিত করেন। হামলার পর থেকে প্রশাসনও প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন। তবে স্থানীয় এমপি আসেন নয় দিন পর।
শুক্রবার পরিদর্শনে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেদিনের ঘটনার বর্ণনা শোনেন এমপি রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। হাজীগঞ্জে গত ১৫০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমি ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ নিয়ে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এখানে অনেক কথা বলা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়য়ের সঙ্গে আছে’।
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমাদের সংবিধানে বলা আছে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে এবং সে অধিকার নিশ্চিত করা আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর সংবিধানিক দায়িত্ব’।
রফিকুল ইসলাম প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর চৌধুরী বাড়ির মন্দিরে যান। সেখান থেকে তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, পৌর শ্মশানঘাট মন্দির ও শ্রী শ্রী রাজলক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ায় যান।
সূত্র জানায়, এ নয় দিন এমপি রফিকুল ইসলাম ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা এ প্রসঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা সড়কে মার খেয়েছি, ঘটনার পরদিন কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের দেখতে আসলেও এমপি স্যার আসেননি, তিনি আসতে পারতেন’।
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মেজর (অ.) রফিকুল ইসলামকে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পরিদর্শনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব উল আলম লিপন, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান শেফালী, পৌর মেয়র আব্দুল লতিফ, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আহসান হাবীব অরুন, হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ খসরু, জেলা পরিষদের সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি রুহি দাস বনিক, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ ইকবাল, যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন সোহেল প্রমুখ।
