ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক লীগের তিনটি কমিটি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. নুরুল হক মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আগের কমিটি বাতিল না করেই পর পর তিনটি কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাদের।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট মো. সুলতানুল আলমকে সভাপতি করে ভালুকা উপজেলা শাখার ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেওয়া হয়। পরে গত ২ সেপ্টেম্বর আগের কমিটি বিলুপ্ত না করেই মো. ইদ্রিস আলীকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মো. আশরাফুল আলম খানকে সভাপতি ও তোফাজ্জল হোসেন খানকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা নির্মাণ শ্রমিকলীগের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট আরও একটি নতুন কমিটি দেওয়া হয়। সবগুলো কমিটিতেই নির্মাণ শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. নুরুল হকের স্বাক্ষর রয়েছে।
নির্মাণ শ্রমিকলীগ ভালুকা শাখার প্রথম কমিটির সভাপতি মো. সুলতানুল আলম বলেন, ‘গত ৩০ আগস্ট আমাকে সভাপতি করে বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক লীগ ভালুকা শাখার ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. নুরুল হক ওই কমিটি স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেন। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এ কমিটি বিলুপ্ত না করেই আরও একটি কমিটি দেওয়া হয়। আমি উকিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল হকের বরাবরে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. নুরুল হকের মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।
বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরদার বলেন, ‘কোনো কমিটি বিলুপ্ত না করে আরেকটি কমিটি দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। ভালুকার কমিটি নিয়ে সাধারণ সম্পাদককে জিজ্ঞেস করেছিলাম। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কমিটি দিয়েছেন বলে তিনি আমাকে জানিয়েছেন। অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। সত্যতা পাওয়া গেলে নির্বাহী কমিটির সভা ডেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
