চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জ¦ালানি খরচ নিয়ে চালক-হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রোগী স্থানান্তরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আনোয়ারা উপজেলায় তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। যাদের বেশির ভাগই দরিদ্র। এসব মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হৃদরোগে আক্রান্ত, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানা জটিল রোগী, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীকে প্রতিনিয়তই উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া কম হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু এখন অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় রোগী বা স্বজনদের বেশি টাকা ব্যয়ে মাইক্রোবাস বা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, করোনার লকডাউনে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী পরিবহনের দায়ে চালক আতাউর রহমানকে অন্যত্র বদলি করা হয়। তার স্থলে গত ৫ আগস্ট আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন চালক জাহাঙ্গীর আলম। এর আগেও তিনি দীর্ঘদিন চালক হিসেবে এ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। সে সময় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তাকে বদলি করা হয়েছিল। এবারও যোগদানের পর থেকেই রোগী পরিবহনে নানা টালবাহানা শুরু করেন এই চালক। নানা অজুহাতে রোগী পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করে আসছেন তিনি। আগের চালকরা যেখানে প্রতি মাসে ১০৫ জন রোগী পরিবহন করতেন, সেখানে চালক জাহাঙ্গীর আলম রোগী পরিবহন করছেন মাত্র ৩৪ জন।
জানা গেছে, আনোয়ারা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী পরিবহনে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৪৬০ টাকা। চালক রোগীর কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নিয়ে সেই টাকায় তেল কিনে রোগী পরিবহন করেন। মাস শেষে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ভাউচার দিয়ে টাকা সমন্বয় করা হয়। এভাবেই চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু চালক জাহাঙ্গীর যোগদানের পর থেকে ‘অগ্রিম’ জ¦ালানি খরচ দাবি করায় বিপত্তি বাধে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন দফা চালক জাহাঙ্গীরকে শোকজ করে। এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বাদানুবাদও হয়। এর জের ধরে জাহাঙ্গীর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে উকিল নোটিস পাঠান। এত কিছুর পরও জাহাঙ্গীরের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি।
রোগীর স্বজন মোহাম্মদ আলী বলেন, ভাগ্নিকে চমেক হাসপাতালে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে দুই হাজার টাকায় অন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছি। কী করব! রোগী তো বাঁচাতে হবে।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়ে নেয়। আমাকে তেলের টাকা না দিলে আমি গাড়ি চালাব না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সচালকের ব্যাপারে আমরা লিখিতভাবে সিভিল সার্জন বরাবর জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
