চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লা দিদার এবং খইয়াছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহেদ ইকবাল চৌধুরী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন ও খইয়াছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু তাহের দুলাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লা দিদার ও খইয়াছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য জাহেদ ইকবাল চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে নৌকা প্রতীকের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তারা মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত না মেনে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দেন। তাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দুজনকে কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এদিকে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল্লা দিদার অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একদল দুর্বৃত্ত মিঠাছড়া বাজারে তার ব্যক্তিগত অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মিরসরাইয়ের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছবি নিয়ে যায় এবং অফিসের আসবাব ভাঙচুর করে। অফিসে থাকা টাকা ও ব্যবসায়িক কাগজপত্র নিয়ে যায়। খইয়াছাড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহেদ ইকবাল চৌধুরী অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীরা তার ছোট ভাই আশেক চৌধুরীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করেছে।
হামলার বিষয়ে সদর ইউনিয়নের নৌকা মনোনীত প্রার্থী শামছুল আলম দিদার বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে জাহেদ ইকবালের ভাইয়ের ওপর হামলার বিষয়ে খইয়াছড়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুল হক জুনু বলেন, লোকমুখে তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি বা তার সমর্থকরা জড়িত নন।
