ছেলের জন্মের খবরে মিষ্টি বিতরণ, মেয়ে সন্তান পেয়ে থানায় অভিযোগ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪৯ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছেলে সন্তান জন্মের খবরে মিষ্টি বিতরণ করে কন্যা সন্তান পেয়ে হতবাক হয়েছেন এক প্রসূতির পরিবার।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুত্র সন্তান পরিবর্তন করে কন্যা সন্তান দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে প্রসূতি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে ।

এ ঘটনায় প্রসূতির বড় বোন শারমিন আক্তার পুত্রসন্তান ফিরে পেতে বৃহস্পতিবার রাতে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই কুড়াতলি গ্রামের আরশাদুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে (১৯) সন্তান প্রসবের জন্য গত ২৬ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে কুমুদিনী হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এর আগে কুমুদিনী হাসপাতালসহ আরও দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সুমাইয়ার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক পবন কুমার সাহাসহ ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে সুমাইয়ার পুত্র সন্তান হবে বলে জানান।

গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক তরুণ ও সিনিয়র নার্স তৃপ্তি হালদারের সহযোগিতায় চিকিৎসক তমা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুমাইয়ার সন্তান প্রসব করান। পাঁচটার দিকে কর্তব্যরত নার্স হাসপাতালে অপেক্ষমাণ সুমাইয়ার স্বজনদের জানান পুত্র সন্তান হয়েছে। বাচ্চার অবস্থা ভালো না হওয়ায় রিকভারি ওয়ার্ডে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানান।

পুত্র সন্তান জন্মের খবরে সুমাইয়ার স্বজনরা হাসপাতালে মিষ্টিও বিতরণ করেন। রাতে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বাচ্চাটিকে সুমাইয়ার কাছে নেওয়া হয়। সুমাইয়া কন্যা সন্তান দেখতে পেয়ে নার্সদের বলেন, আমার পুত্র সন্তান হয়েছে, আমাকে কন্যা সন্তান দিলেন কেন? তখন নার্স তাকে জানান তার কন্যা সন্তান হয়েছে। বাচ্চার কান্না থামানোর জন্য ওই নবজাতক কন্যা শিশুকে সে তার বুকের দুধও পান করান।

খবর পেয়ে সুমাইয়ার পরিবার হাসপাতালে এসে নার্স ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। সংবাদটি হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। তবে হাসপাতালের সকল কাগজপত্রে সুমাইয়ার কন্যা সন্তান হওয়ার বিষয়টি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

সুমাইয়ার খালা হালিমা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালের নার্স সুমাইয়ার পুত্র সন্তানকে ওটির বাইরে এনে আমাদের দেখিয়েছেন। এখন বলছেন মেয়ে সন্তান হয়েছে। এ ছাড়া আমরা বাড়ি থেকে বাচ্চার জন্য যে কাঁথা দিয়েছি তা ওই কন্যা সন্তানের পরনে নেই। আমরা আমাদের নাতি ভাইকে ফেরত চাই।’

সুমাইয়ার মামা আজিজুর রহমান বলেন, আমি জেনেছি আমার ভাগনির পুত্র সন্তান হয়েছে। আমাদের রোগীর অবস্থা ভালো না। এ ছাড়া সুমাইয়া দরিদ্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাদের বাচ্চা পরিবর্তন করেছেন।

কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক পবন কুমার সহা বলেন, প্রতিদিন অনেক আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। কাকে কি বলেছি তা মনে নেই। তবে রিপোর্ট সবসময় সঠিক হবে তার নিশ্চয়তা নেই।

এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় বলেন, প্রত্যেক গর্ভবতী মাকে বাচ্চা প্রসবের আগে একাধিক আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। রিপোর্টে যদি চিকিৎসকেরা পুত্র সন্তানের কথা বলে থাকেন এবং অস্ত্রোপচারের পর নার্সরা পুত্র সন্তান সুমাইয়ার স্বজনদের দেখিয়ে থাকে তাহলে কোনো এক জায়গায় ভুল হয়েছে।

হাসপাতালের সব রেকর্ডে সুমাইয়ার কন্যা সন্তান প্রসবের কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে সুমাইয়ার পরিবার চাইলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করানো যেতে পারে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুবেল হোসেন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে অভিযোগটি ভিত্তিহীন। সুমাইয়ার পরিবারের সদস্যরা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত