পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা দিতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৪ পিএম

গাজীপুরে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। আর পুলিশ বলছে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনসে এই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম ফাহিম চৌধুরী (২০)। সে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকার  ইসমাইল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে কনস্টেবল নিয়োগ  পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যায় ফাহিম চৌধুরী। পরীক্ষা চলাকালে ফাহিম টেলিকম টাওয়ারের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। এ সময় সে ওই স্থানেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন অনেকেই ধারণা করেন তিনি টাওয়ার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফাহিম চৌধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পিতা ইসমাইল হোসেন জানান, তার ছেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনস মাঠে টেলিকম টাওয়ারে হেলান দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।

নিহতের ফুপাতো ভাই কবির হোসেন খোকন জানান, পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ফাহিম সকালে গাজীপুরে জেলা পুলিশ লাইনসে যায়। সেখানে চাকরি প্রার্থীদের মাঠে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে গরমের কারণে সারির পেছনের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিমসহ অপর দুজন পাশেই টাওয়ারের নিচে ছায়ায় দাঁড়ায়। এ সময় পাশে থাকা একটি এসিতে স্পর্শ করলে ফাহিমসহ দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফাহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহত অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসেন ফাহিম চৌধুরী। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়নি।

এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা উঠলে পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান নিয়ে তা পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই টাওয়ারে কোনো বিদ্যুৎ ছিল না তারা জানিয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুর ইসলাম জানান, তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যু প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত