ওজোন স্তরে বিশাল ছিদ্র, ঘনিয়ে আসছে বড় বিপদ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৩ পিএম

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও গ্রিন হাউস এফেক্টের ভয়াবহ খেসারত যে পৃথিবীকে চলতি শতকেই দিতে হবে তা আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। এবার তাই যেন বিন্দুতে বিন্দুতে সত্যি হতে চলেছে।

সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, ওজোন স্তরের একাধিক ছিদ্রের আকার অ্যান্টার্কটিকার থেকেও বড় হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। ওজোন স্তরের একটি ছিদ্র প্রায় ভারতের মোট আকারের থেকেও কয়েক গুণ বড় হয়ে গেছে। আর তাতেই বেড়েছে দুঃশ্চিন্তা।

সহজ ভাষায় বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আপাতদৃষ্টিতে দেখতে গেলে ওই ছিদ্রের আকার ভারতের আয়তনের চেয়ে ৮ গুণেরও বেশি। এর মোট আকার প্রায় আড়াই কোটি বর্গ কিলোমিটার। গত চার দশকে ওজোন স্তরে যত বড় ছিদ্র দেখা গেছে এটি আকারে তাদের মধ্যে সব থেকে বড় বলে জানা যাচ্ছে। ওজোন স্তরে এত বড় মাপের ফাটল শেষ দেখা গিয়েছিল আজ থেকে ৪২ বছর আগে। ১৯৭৯ সালে।

সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি যাতে পৃথিবীর মাটিতে পৌঁছাতে না পারে সেজন্য ঢাল হয়ে বায়ুমণ্ডলের উপরের দিকে রক্ষ কবচের মতো থাকে ওজোন স্তর। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরকে (ভূপৃষ্ঠ ও তার কাছাকাছি) বলা হয় ‘ট্রপোস্ফিয়ার'। তার উপরে রয়েছে আরও একটি স্তর। যার নাম ‘স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার'। সেই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের একেবারে উপরের স্তরে রয়েছে এই ওজোনের চাদর। ভূপৃষ্ঠের সাত থেকে ২৫ কিলোমিটার বা ১১ থেকে ৪০ কিলোমিটার উঁচুতেই রয়েছে ওজোন স্তর।

অন্যদিকে, ১৯৮৭ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের সুরক্ষায় মন্ট্রিল প্রটোকল মেনে চলার জন্য পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র একমত হলেও উন্নত দেশগুলো তা বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ উঠছে দীর্ঘদিন ধরেই। এমনকী বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাবে ক্রমেই ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ছে পৃথিবীর এই রক্ষাকবচ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত