গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ‘অচেনা সেই প্রাণীটি’ শিয়াল হতে পারে জানিয়ে গাইবান্ধা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাছুদার রহমান সরকার বলেছেন, যাদেরকে প্রাণীটি কামড় দিয়েছে, তাদেরকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে হবে।
শনিবার বিকেল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিয়ালের অনেকগুলো উপ-প্রজাতি আছে। মানুষ অচেনা এই প্রাণীটির যে বিবরণ দিচ্ছেন, সে অনুযায়ী মনে হচ্ছে এটি শিয়ালেরই সেরকম একটি উপপ্রজাতি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা গ্রামগুলো পরিদর্শন করে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। মানুষকে সতর্ক হয়ে চলতে হবে। কেননা এই প্রাণী জলাতঙ্কের জীবাণু বহন করে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘যদি কোনো মানুষকে শিয়াল বা এই প্রাণীটি কামড়ায়, তাহলে তাকে হাসপাতালে গিয়ে দ্রুত জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে। যদি কোনো পশুকে কামড়ায়, তাহলে সেই পশুকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে টিকা দিতে হবে।’
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক কেঁওয়াবাড়ী গ্রামে প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এক অচেনা-অজানা প্রাণীর আক্রমণে ইতিমধ্যে একজন মারা গেছেন ও আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। এমনকি এই প্রাণীর হাত থেকে রেহাই পায়নি কুকুরও। আক্রমণের শিকার হয়ে দু’টি কুকুরের মৃত্যু হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হরিনাথপুর ইউনিয়নে এ ঘটনার শুরুটা হয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর। এ দিন হরিনাথপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী ফেরদৌস রহমান রুকু নামের এক বৃদ্ধ দুপুরে আক্রমণের শিকার হন অচেনা এই প্রাণীটির। এরপর বেশ কয়েকজন প্রাণীটি দ্বারা আক্রান্ত হন।
যারা এই প্রাণীটিকে দেখেছেন তারা বলছেন, প্রাণীটি দেখতে কুকুর বা শিয়ালের মতো। মোটা ধরনের প্রাণীটির গায়ের রং লাল, সাদা ও ধূসর। লম্বা লেজ, মুখটাও লম্বাটে।
প্রাণীটি হাঁস-মুরগি, গরুকে আক্রমণ করে না। আক্রমণ করে শুধু নিরীহ মানুষ, ছাগল ও কুকুরকে।
