আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ওভারে চার ছক্কা মারা আসিফকে নিয়ে বেন স্টোকসের টুইট ‘রিমেম্বার দ্য নেম আসিফ আলি’। ছয় বছর আগে একই রকম চিত্রে এই বাক্যটি শুনতে হয়েছিল ইংল্যান্ড অলরাউন্ডারকে। সেবার স্টোকসই ছিলেন সাবেক উইন্ডিজ পেসার ইয়ান বিশপের ওই বাক্যের শিকার। এবার লাইনটা নিজেই বললেন। আসিফ আলিকে নিয়ে ওই ম্যাচের পর সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অথচ এক বছর আগেও তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার রব উঠেছিল।
এই বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বল খেলেছেন আসিফ, মেরেছেন ৭ ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ১২ বলে ২৭ করে দলের জয় সহজ করেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে ৭ বলে চার ছক্কায় ২৫। জেতার পর ২০০৬ সালে পাকিস্তানকে হারানোর পর ধোনির মতো উদযাপন করেছেন আসিফ। সেবার ব্যাটকে ‘বন্দুক’ বানিয়ে গুলি করার ভঙ্গি করেন ধোনি। সেদিন তা করলেন আসিফ। অবশ্য এই গুলি ভারতের দিকে না প্রতিবেশী আফগানদের দিকে তা বোঝা গেল না। সম্প্রতি দুই দেশের অবস্থা অবশ্য মারামারির মতোই। ২০১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপের ম্যাচের আগে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে পতাকা নিয়ে টানাটানি ও মারামারি হয়েছিল। পরশুও একই অবস্থা হতে যাচ্ছিল দুবাই স্টেডিয়ামের বাইরে। ১৬ হাজার টিকিট ছাড়া হয় এই ম্যাচটির জন্য। কিন্তু স্টেডিয়ামের বাইরে হাজারো সমর্থক। পাকিস্তানি ও আফগানরা গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে নিরাপত্তার জন্য ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচের গেট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় ৭টায়।
এই বিশ্বকাপের আগে অবশ্য আসিফকে নিয়ে এতটা ভাবা হয়নি। ২০১৯ সালের মে-তে দুই বছরের কন্যাকে হারানোর পর বেশ কঠিন সময় ছিল এই ব্যাটসম্যানের। টি-টোয়েন্টিতে এখনো কোনো ফিফটি নেই তার। সবশেষ বড় ইনিংসে ২৯ রান ২০১৯-এ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। এ বছর অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে বাজে পারফরম করেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজেও এক ম্যাচ খেলে দলে জায়গা হারান। পরে বিশ্বকাপের আগে পিএসএলে নিজেকে ফেরানোর লড়াইয়ে নামেন। খুব একটা ভালো না করলেও তার ওপর আস্থা রেখে প্রতি ম্যাচ খেলায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। এই আস্থা খুব ভালো লাগে আসিফের। আত্মবিশ্বাস পান বিশ্বকাপে ভালো করার। বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে সব অনুশীলনে তাকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেদিন ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে বলছিলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে এবং আমার ওপর যারা আস্থা রেখেছেন তাদেরও। এই বিশ্বকাপের আগে আমাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা উঠছিল। পরিসংখ্যান যারা দেখেন তারা শুধু আমার রানটাই দেখেন, কিন্তু কত বল পাচ্ছি, সেট হতে পারছি কিনা তা দেখেন না। এই বিশ্বকাপে আমার দায়িত্বটা ছিল শুধু ডেথ ওভার। অনুশীলনে সেভাবেই কাজ করেছি। ১০ বল হাতে নিয়ে শুধু পাওয়ার হিট করেছি। তাতে কতটুকু সফল হয়েছি তা আপনারা দেখছেন।’
২০১৮ সালে ডেথ ওভারে ছক্কা মারার সামর্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেন আসিফ। পিএসএলে নিজের সামর্থ্য দেখালেও পারছিলেন না আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তবে এবার সঠিক মঞ্চেই জ্বলে উঠলেন। তাই ম্যাচ শেষে সেদিন নিজেই সমালোচনার জবাব দিয়ে টুইট করেন আর কোন হুকুম আছে পাকিস্তান?
পাকিস্তান আসিফকে আর হুকুম করবে না, ভালোবাসবে। তাই আফগান ম্যাচের পর এক সমর্থককে দুবাই স্টেডিয়ামের নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে আসিফের কাছে চলে যেতে দেখা যায়। পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন ফিনিশার এখন এই ভালোবাসাটাই পাবেন।
