যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনুষ্ঠানে ভারতীয় কমেডিয়ান বীর দাস তার দেশের বৈপরীত্য তুলে ধরে বিপদে পড়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘দিনের বেলায় মানুষ নারীদের পূজা করে, কিন্তু রাতে তাদের গণধর্ষণ করে।
বিবিসি জানায়, এমন বক্তব্যের জেরে সাধারণ মানুষ থেকে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদরা বীরের সমালোচনা করছেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের হয়েছে।
তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর বলিউডের একাধিক সিনেমার অভিনেতা এটিকে ‘দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ভারতের সহাবস্থানের বিষয়ে রম্য’ বলে অভিহিত করেন। তবে বীর দাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন রাজনীতিবিদ শশী থারুর, অভিনেত্রী তাপসী পান্নু, স্বরা ভাস্বর ও পরিচালক হানসেল মেহতাসহ অনেকে।
চলমান বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে গত ১২ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওই মনোলোগটি পরিবেশিত হয়। পরে সাত মিনিটের একটি ভিডিও অনলাইনে আপলোড হলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
দর্শকদের উদ্দেশ্যে ৪২ বছর বয়সী কৌতুক অভিনেতা বলেন, ‘আমি এমন একটি ভারত থেকে এসেছি যেখানে বায়ু মানের সূচক ৯০০০, কিন্তু আমরা এখনো ছাদে ঘুমাই এবং আকাশের তারা দেখি।’
‘আমি এমন একটি ভারত থেকে এসেছি যেখানে আমরা নিরামিষভোজী হওয়ার জন্য গর্ব করি, এবং তারপরও আমাদের শাকসবজি চাষি কৃষকদের চাপা দিতে পিছপা হই না’— অক্টোবরে বিক্ষোভকারী কৃষকদের ওপর এক মন্ত্রীর মালিকানাধীন একটি গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন। ওই ঘটনায় অন্তত আটজন কৃষক নিহত হয়।
ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের দিল্লির মুখপাত্র আদিত্য ঝাঁ পুলিশের কাছে বীর দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে ‘নারী ও ভারতের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। আমি চাই পুলিশ এর তদন্ত করুক।’
উগ্র ডানপন্থী অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে বীরের কৌতুককে ’মৃদু সন্ত্রাস’ অভিহিত কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেন।
এ দিকে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর টুইটারে লেখেন, বীর দাস ‘লাখ লাখ মানুষের জন্য কথা বলেছেন’। আরও বলেন, ‘তিনি একজন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান- যিনি জানেন যে স্ট্যান্ড আপ শব্দের আসল অর্থ শারীরিক বা বস্তুগত নয় বরং নৈতিক।’
এর আগে এক মামলায় কৌতুক অভিনেতা মুনাওয়ার ফারুকীকে এক মাসেরও বেশি কারাভোগ করতে হয়। তার বিরুদ্ধে হিন্দু দেবতাদের সম্পর্কে ‘অশালীন মন্তব্য’-এর অভিযোগ আনা হয়।
উগ্র হিন্দু সংগঠনের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ায় এরপর থেকে ফারুকী একাধিক অনুষ্ঠানও বাতিল করেন।