সম্প্রতি ফাঁস হওয়া নতুন একটি গোপন নথি থেকে প্রমাণিত হয় যে, চীনের উইঘুর মুসলমানদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংসহ শীর্ষ নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে।
চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর জাতিসত্তার লোকজনের ওপর দেশটির কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বন্দিশিবিরে আটকে রেখে উইঘুর মুসলিমদের ওপর ভয়ংকর নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষের ওপর নজরদারি করছে দেশটি।
ফাঁস হওয়া ওই গোপন নথি দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যই ওই দমন-পীড়ন অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছে বলে নথি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াংসহ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছিলেন।
নথি থেকে প্রমাণ হয় চীন সরকারের শীর্ষ নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে উইঘুরদের বিরুদ্ধে যে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তার মধ্যে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
চীন সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের বন্দি করে রাখা, জোর করে কাজ করানো এবং গণহত্যার অভিযোগও রয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে চীনা প্রশাসন।
ফাঁস হওয়া নথিগুলো গত সেপ্টেম্বরে ‘উইঘুর ট্রাইব্যুনাল’ নামে যুক্তরাজ্যের একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়েছিল। তখন ‘শিনজিয়াং পেপার’ নামে পরিচিত ওই নথি সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হয়নি।
উইঘুরদের জোরপূর্বক বন্দি করে রাখা, গণবন্ধ্যাকরণ, চীনা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আত্তীকরণের নামে ‘পুনঃশিক্ষা দেওয়া’ এবং আটক উইঘুরদের শ্রম দেওয়ার জন্য বাধ্য করার মতো দমন-পীড়নের উল্লেখ রয়েছে নথিতে।
তবে, দেশটির দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমন ও ইসলামি উগ্রপন্থা নির্মূল করতে জিনজিয়াংয়ে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বন্দীদের ‘পুনঃশিক্ষণ’ দিতে বন্দিশিবির কার্যকর উপায় বলে দাবি করে তারা।
বছর দুয়েক আগেও ফাঁস হওয়া অভিন্ন এক সেট নথি পাওয়ার কথা জানায় নিউ ইয়র্ক টাইমস। তবে সেইসব নথির সবগুলো জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য বেইজিংকে দায়ী করে থাকে।
