দেশীয় মোটিফের নানা আয়োজন নিয়ে কিউরিয়াসে প্রদর্শনী চলছে

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১১ পিএম

কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান আর উপকরণের অলঙ্কৃত সুরিয়েরিজম নিয়ে কিউরিয়াসে চলছে ‘উইন্টার এক্সিভিশন’। ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে তাদের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটে শুরু হয় এই প্রদর্শনী। কিউ গ্যালারিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে নজরকাড়া আয়োজন। এক পাশে পোশাক আর অন্য পাশে নারীদের প্রিয় গহনা। তবে সবার আগে চোখ আটকে যাবে ঝকঝকে টায়েলসে পড়ে থাকা শুকনো পাতার দিকে। ঝরাপাতা জানান দিলো শীতকাল চলছে। কিউরিয়াসের ডিজাইনার কনসালট্যান্ট হলেন চন্দ্রশেখথর সাহা। এবারের কালেকশনগুলো তারই চিন্তার ফসল। প্রথমেই শীত পোশাকের আয়োজন। দেশীয় ধাঁচে তৈরি হয়েছে প্রতিটি পোশাক। এরপরেই একটি কর্নারে রাখা হয়েছে তুলা, লেপ ও ধুনকো।  ডিজাইনার কনসালট্যান্ট চন্দ্র শেখর সাহা জানালেন, ‘আমরা এখন কোরিয়ান কম্বল গায়ে জড়িয়ে আরামে একটা ঘুম দিই। এটা সময়ের চাহিদা। লেপের জায়গা বদলে নিয়েছে কম্বল। এমন ছোটখাটো অনেক বিষয় উপস্থাপন হয়েছে প্রদর্শনীতে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ডেকো লিজেন্সি গ্রæপের চেয়ারম্যান এম সাহাদাত হোসেন কিরণ, কিউরিয়াসের পরিচালক মৌ হোসেন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ হোসেন।

ঋতুবৈচিত্র্যে বাংলাদেশ নিজ¯^তায় আজও অন্যতম। বিশে^র অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশের শীতের আবহাওয়া, ঐতিহ্যগতভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের লহরী কাঁথা, কুমিল­ার খদ্দর শাল, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাদি সুতার বুরগী, সিলেটের খেশ এবং রাজশাহীর ভেড়ার পশমের কম্বল আজ ইতিহাস। এরই ধারাবাহিকাতায় শীত প্রদর্শনীতে ২০২১-এর আয়োজনটি করা। যার মধ্যে আছে কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান, নীলাভ ছন্দ, নান্দনিক জটিলতা ও আলোছায়া-জাদুমায়া শিরোনামে সংযোজিত হয়েছে গহনার প্রচলিত ও অপ্রচলিত উপকরণের সমš^য়ের হৃপবৈচিত্র্য।

এখানে গুরুত্ব পেয়েছে বৈশি^ক উষ্ণতা বৃদ্ধি, জয়বায়ু পরিবর্তন আর এই পরিপ্রে¶িতে পোশাক শিল্প আর ফ্যাশন দুনিয়ার দায়িত্বশীলতা। যে হারে বৈশি^ক তাপমাত্রা বাড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে ৫০ বছর পর শীতকাল বলে আর কিছু থাকবে কিনা, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। পুরো প্রদর্শনীকে ভাগ করা হয়েছে দু’ভাবে। এক, কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান এবং অন্যটি উপকরণের অলঙ্কৃত সুরিয়েলিজম।

কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান

সময়ের অতীত থেকে গৌরবময় সৃজন ঐতিহ্য, আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে সব সময়ই সমৃদ্ধ করে এসেছে। নকশিকাঁথা বাঙালির মমতা জড়ানো কারুশৈলীর চিরšøন অনুভব। ‘কিউরিয়াস’ এবারের আয়োজনের প্রেরণায় ছিল নকশিকাঁথা ফোঁড়ের বর্ণিল সারফেস; সহযোগী হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে বাটন¯িদ্বচের সুরেলা বর্ডার। লাইনিংয়ের প্রিন্ট ডিজাইনে শিল্পীর নিপুণ ড্রইংয়ের ¯^রুপ তৈরি করেছে প্রকৃতির ছায়াময় বাগান। এবারে শীতের পোশাকে স্টাইলের মাধ্যমে আরও সংযোজিত হয়েছে সময়ের আধুনিক মাত্রা। আয়োজনটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে পরিচিত হবে নান্দনিক ভঙ্গিতে। প্রাকৃতিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে দীর্ঘ সময়ে পরিক্রমায় পোশাকের সুবিশাল বৈচিত্র্য। কিউরিয়াস শীতের আবহাওয়ায় দৃষ্টিনন্দন ব্যক্তিত্বের বিষয়টিতে উপলব্ধি করে, তার যৌক্তিকতায় পুরুষ ও মহিলাদের দুটি আলাদা কালেকশনও উপস্থাপিত করেছে। প্যাটার্নের ছন্দ ও কাঁথা ফোঁড়ের প্রয়োগে ব্যতিক্রমী সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শীত ফ্যাশনের বর্ণিল রংমালা।

উপকরণের অলঙ্কৃত সুরিয়েলিজম

অলঙ্কার শিল্পের উদ্ভব হয়েছে ৫ হাজার বছরের অতীত সময় থেকে। হারিয়ে যাওয়া সবগুলো সভ্যতাতেই তার উদাহরণের নিদর্শন পৃথিবীর বিভিন্ন জাদুঘরে সংর¶িত রয়েছে। কিউরিয়াস তার গুণগ্রাহী পৃষ্ঠপোষকদের জন্য গহনার নতুন ভাবনা রচনা করেছে, যেখানে উপস্থাপন হয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্পর্কিত সময় ও ভাবনার বৈচিত্র্য অভিনবত্ব। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চলমানতায় প্রয়োজন ও ¯^প্নæবিলাসের এক দ্বৈত সংগীত সবসময়েই অনুরচিত হয়ে চলেছে। কিউরিয়াসের ডিজাইন স্টুডিও অভিজ্ঞতা, নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার অনুভব থেকে প্রদর্শনীর গহনার ভাবহৃপ সৃজনে প্রয়াসী হয়েছে।

বিশেষ এই প্রদর্শনী চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত