দীর্ঘ ছয় বছর তালাবদ্ধ থাকার পর ফেনী প্রেস ক্লাবের তালা খুলেছে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে এক হতে চলেছেন জেলার কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকরা। সোমবার ফেনী মুক্ত দিবসে সাংবাদিকরা এক হয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন।
এরপর সাংবাদিকরা শহরের জেল রোডের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং প্রেসক্লাবের ঐক্যের ব্যাপারে শপথ বাক্য পাঠ করেন।
ফেনী রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সাহাদাত হোসেন বলেন, জেলার ইতিবাচক সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখার প্রশ্নে প্রেসক্লাবের তালা খোলার বিকল্প ছিল না।
প্রথম আলো ফেনী প্রতিনিধি আবু তাহের বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো ফেনী প্রেসক্লাব। পেশাদার সাংবাদিকদের প্রাণের এ জায়গা বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল সাংবাদিকতা। সাংবাদিকদের মধ্যে বাড়ছিল অনৈক্য। বিবদমান এ অচলাবস্থা দূর করার প্রয়াসে ফেনীর সাংবাদিকরা এক হয়েছেন ঐক্যের প্রশ্নে। যার ধারাবাহিকতায় ক্লাবে প্রবেশ করেছেন সাংবাদিকরা।
এখানে প্রতিটি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি, প্রথম কাতারের জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি, ফেনী থেকে প্রকাশিত সব দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদ ও নির্বাহী সম্পাদকরা আছেন।
রবিবার সকালে জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে ক্লাবের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। এরপর এক এক করে জেলার কর্মরত অন্য সাংবাদিকরাও ক্লাবে প্রবেশ করেন। তারা ক্লাব ধুয়ে-মুছে নিজেদের বসার উপযোগী করেন। পরে বিবদমান চার কমিটির সাধারণ সম্পাদকরা নিজ নিজ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দও প্রেসক্লাবের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, আমরা জেলার সব সাংবাদিকরা চাই জেলার প্রাচীন এই সাংবাদিক সংগঠনটি প্রাণ ফিরে পাক। বিভেদ ভুলে সব সাংবাদিক এক ছাদের নিচে আসুক।
ফেনী প্রেস ক্লাব খোলার পর সোমবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. সেলিম।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ক্লাবটিকে সীলগালা করে দেয় প্রশাসন। ক্লবের দুপক্ষে বিবাদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে খুলে দেওয়া হয়। পরে ২০১৬ সালের ৩ মে আবার সিলগালা করা হয়।
