বুয়েট ছাত্র আববার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় হয়েছে। রায়ে ২০ জনের ফাঁসি ও ৫ জনের যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। আবরারের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এ নিয়ে বিস্তর বিবরণ পাওয়া গেছে। তবে সেই সংবাদ কীভাবে আবরারের পরিবার পেয়েছে, সেই হৃদয়বিদারক স্মৃতিকথা ফেসবুকে লিখেছেন আবরার ফাহাদের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ। রায় প্রকাশের পর ৯ ডিসেম্বর তিনি তার ফেসবুকে এটি লিখেন।
তিনি ওই দিন (৭ অক্টোবর ২০১৯) প্রথমে মায়ের কাছে জানতে পারেন তার ভাই অসুস্থ। কিন্তু তার কাছে তার ভাইয়ের কোনো বন্ধুর ফোন নম্বর না থাকায় কীভাবে সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছেন এবং সংগ্রহ করতে গিয়ে ফেসবুকে গিয়ে জানতে পারেন তার ভাই আর নেই।
হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিকথাটার কিছু অংশ তুলে দেয়া হলো-
‘সেদিন রাতে বার্সেলোনার খেলা ছিলো। ঘুমাতে ঘুমাতে অনেক রাত হয়ে গেছিলো। ঘুমানোর ২ ঘন্টা পর আম্মু ডেকে বললো, ‘তাড়াতাড়ি ওঠ, ভাইয়া নাকি খুব অসুস্থ, কে যেন কল দিয়ে বললো’। আব্বু ঢাকাতে কল দিয়ে মামাদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যেতে বললো। আমাকে বললো কোনোভাবে যদি রুমমেটদের ফোন নাম্বার পাওয়া যায়। ভাইয়ার রুমমেটদের নাম জানতাম। প্রথমে নাম দিয়ে এফবিতে সার্চ দিয়ে পেলাম না। তারপর ভাইয়ার প্রোফাইলে এসে প্রোফাইল পিকচারের রিয়েক্ট চেক করে রাফি ভাইয়ার আইডি পেলাম। ঢুকেই দেখি সবার উপরে এই পোস্ট, ‘২০১৭ ব্যাচের আবরার ফাহাদের আমাদের মাঝে আর নেই.....’
মুখ দিয়ে শুধু বলেছিলাম, ‘কিভাবে সম্ভব!’ আর মনে মনে সবার আগে মনে হয়েছিলো হয়তো এখনো ঘুম থেকে উঠিনি। কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি। বলেছিলাম, ‘প্লিজ প্লিজ এটা যেন স্বপ্ন হয়।’ কিন্তু সেদিন আর ঘুম ভাঙেনি।
আস্তে আস্তে দিন বাড়তে লাগলো। আত্মীয়-স্বজনরা গিয়ে কনফার্ম করলো নিউজটা। কিছুক্ষণ পর টিভিতেও নিউজ আসলো।ফেসবুকে পরিচিত অনেকে একই পোস্ট দিলো। দুপুরের কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এটা দেখে বুঝে যায় কাদের এর পিছনে হাত আছে। তখন আশপাশের সবাই বলাবলি শুরু করে। এদের বিচার কোনোদিনও হবে না। আমিও জানতাম বিশ্বজিৎ, তনু, নুসরাত এদের কথা। সেদিন খুব কমই আশা ছিলো যে বিচার এতদূর আসবে। শুধু মনে মনে ভেবেছিলাম, ‘আল্লাহ, এরা আমার ভাইকে মেরেও কি বেঁচে যাবে!’
