অসুস্থ বাবার সামনে ছাত্রলীগ নেতার নির্দেশে নিজের গালে জুতা মারলেন তরুণ!

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:০৩ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবার সামনেই ছেলেকে নিজের মুখে জুতা মারতে বাধ্য করেছেন ছাত্রলীগ নেতা। এই দৃশ্য দেখে অসুস্থতা বেড়ে যায় বাবার। ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার বিকেলে মনঃকষ্টে নীরবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত গিয়াস উদ্দিন।

ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফুজ্জামান বিপাশ ঝিনাইদহ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

জানা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর রাতে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন উপজেলার যাদবপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন।

তার ছেলে এস এম সরকার ওরফে হোসাইন ঢাকায় চাকরি করেন। হোসাইন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন।

ঘটনার দিন ৮ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশ তার ৩ সহকর্মীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তারা এসে হোসাইনের বাবার পাশে তাকে বসে থাকতে দেখে তার উপর চড়াও হন। তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন।

এ সময় এস এম সরকার তাদের আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি দেখে ক্ষমা চান। একপর্যায়ে পায়ে ধরেও ক্ষমা চান। এরপরও ছাত্রলীগ সভাপতি নিজের পায়ের জুতা খুলে এগিয়ে দিয়ে হুকুম দেন নিজের মুখে জুতার বাড়ি মারতে। উপায় না দেখে হোসাইন নিজের মুখে জুতা দিয়ে বাড়ি মারেন।

হোসাইনের ভগ্নিপতি মোমিনুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনার পর তার শ্বশুর মানসিক কষ্টে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বারবার জিজ্ঞাসা করেন তার ছেলে কী অপরাধ করেছেন? কিন্তু তিনি কোনো উত্তর খুঁজে পাননি। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন গিয়াস উদ্দিন। তখন তারা যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি মারা যান।’

এস এম সরকার ওরফে হোসাইন বলেন, ‘জুতা মারার দৃশ্যটি দেখলেই বুঝতে পারবেন, আমার ওপর কী অত্যাচার করা হয়েছে।’

এর বেশি কিছু তিনি বলতে পারেননি, শুধু কান্নাকাটি করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশ বলেন, ‘আপনারা ঘটনা যা শুনছেন বিষয়টি তা নয়। হোসাইন আমাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা কথাবার্তা লিখত। তার বাবার অসুস্থতার কথা শুনে আমরা তাকে দেখতে যাই। সে তার ভুল বুঝতে পেরে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে।’

তিনি বলেন, আমি তাকে জুতা মারতে বলব কেন। সে নিজেই আমাকে জুতা মারতে বলে। আমি না মারলে সে নিজে নিজে এটা করেছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ বলেন, বিষয়টি আমরাও শুনেছি। ঘটনা সত্যি হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত