ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ১৭ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা আওয়ামী লীগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর ওই ১০ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হবে।
বহিষ্কৃতরা হলেন বুধন্তি ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন, চান্দুরা ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ফয়েজ, ইছাপুরা ইউনিয়নে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হক বকুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আকতার হোসেন, চম্পকনগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া ও সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, পত্তন ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি তাজুল ইসলাম ও সদস্য সামসুল আলম, চর ইসলামপুর ইউনিয়নে উপজেলা যুবলীগ সহসভাপতি মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ, বিষ্ণপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী, হরষপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রাজিব চন্দ্র বণিক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহজাহান, পাহাড়পুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদ ও সহসভাপতি জসিম উদ্দিন মলাই এবং সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক আল-আমিন ভূঁইয়া।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূঞা ও সাধারণ সম্পাদক তানবীর ভূঞা স্বাক্ষরিত বহিষ্কারের সুপারিশের একটি চিঠি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। জহিরুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘১ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। ৬ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও যারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি এমন ১৭ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে আমরা ৮ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগকে চিঠি দিয়েছি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।’
