নিরাপদ সড়কের জন্য এগারো দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই সময় পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে জানুয়ারি থেকে ফের আন্দোলনে নামার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার বিকেলে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিকরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহাগী সামিয়া এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ১১ দফা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা কিছুটা সময় দিতে চাই। ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে না পাই, নতুন বছরে আমরা আবার আন্দোলন শুরু করব।’
সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের ১১ দফা দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাব, জনসমর্থন আদায় করব। তাদের মতামত আমরা গ্রহণ করব। আমাদের আন্দোলনের ধরনটা পাল্টাচ্ছি, কিন্তু আন্দোলন থেকে সরে আসছি না। এই সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে না পেলে নতুন বছর থেকে শুধু শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামব।’
কর্মসূচিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ২০১৮ সালের সড়ক আন্দোলনের দাবি উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। তবে পরিবহনের ক্ষেত্রে এবং জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সেসব কথা বাস্তবায়ন হতে দেখা যায় না।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী, শিক্ষক নাজনীন আক্তার শারমিন, রাইড শেয়ার অ্যান্ড সার্ভিস ডেলিভারি ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজ মাহমুদ, ঢাকা জেলা ট্যাক্সি ট্যাক্স কার, অটো টেম্পো, অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি
১. সড়কে নির্মম কাঠামোগত হত্যার শিকার নাইম ও মাইনউদ্দিনের হত্যার বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।
২. সারা দেশে সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফপাস সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফপাসের জন্য কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সব রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. গণপরিবহনে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের অবাধ যাত্রা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. সব রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ দৃর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক ফুট এক বাস এবং দৈনিক আয় সব পরিবহন মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুযায়ী সমানভাবে বণ্টন করার নিয়ম চালু করতে হবে।
৭. শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তি ভিত্তিতে বাস দেওয়ার বদলে টিকেট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. গাড়ি চালকের কর্মঘণ্টা একনাগাড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে ২ জন চালক ও ২ জন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. যাত্রী-পরিবহন শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
১০. ট্রাক, ময়লার গাড়িসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত করে নিতে হবে।
১১. মাদকাসক্তি নিরসনে গোটা সমাজজুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্ট ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
