ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ বিষয়ে বিএনপি ‘নেতিবাচক’

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৫ এএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছেন। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এ সংলাপ শুরু হবে।

ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপের আমন্ত্রণ আমরা পাইনি। আমন্ত্রণ পেলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সংলাপের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে। পাশাপাশি সমমনা রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে বেশিরভাগ নেতাই রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক। তারা মনে করেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ লোক দেখানো ও সংবিধান বিরোধী। এভাবে প্রতিবার সংবিধান বিরোধী সংলাপে অংশ নেয়ার কোনো মানে হয় না। তা ছাড়া সবার মতামত নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই হবে নতুন ইসি। তবে শেষ পর্যন্ত সংলাপে অংশ না নিলেও দলীয় অবস্থান তুলে ধরে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠাতে পারে বিএনপি। চিঠিতে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানোর অনুরোধ করা হতে পারে।’

গত ২৩ নভেম্বর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ‘আমরা এমন সংলাপে যাব না। এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনেও যাব না।’

এদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে রাষ্ট্রপতির চিঠি পেয়েছেন। 

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে। তবে সুনির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে তা গঠনের কথা থাকলেও সেই আইনটি এখনও প্রণীত হয়নি। এ নিয়ে দেশের সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আইন প্রনয়নের প্রতি জোর দিয়ে আসছে। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি খসড়া আইন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে তুলে দেন।

এর আগে এটিএম শামসুল হুদা কমিশনও ইসি গঠনে একটি আইনের প্রস্তাব করে যান। কিন্ত সরকার এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়নি।

জটিলতা এড়াতে গত দুবার সার্চ কমিটির ব্যবস্থা হলেও বিতর্ক থামেনি। গত ২৮ নভেম্বর সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, চলমান একাদশ জাতীয় সংসদের আগামী দুটি অধিবেশনের মধ্যে তিনি ইসি গঠন সংক্রান্ত আইন সংসদে তুলতে পারবেন। তবে আগের মতোই এবারের ইসিও সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান নতুন ইসি গঠনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। ওই সংলাপের পর সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ইসি গঠন করা হয়েছিল।

২০১৬ সালে একইভাবে সংলাপের আয়োজন করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর সংলাপ শুরু হয়েছিল। এক মাসে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ মোট ৩১ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপ করেন তিনি।

দলগুলোর পক্ষ থেকে ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠনসহ বিভিন্ন পরামর্শ এসেছিল। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন ইসি দায়িত্ব নেয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। বর্তমান সিইসি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকদেরও কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। এ ছাড়া বিএনপিসহ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নূরুল হুদাকে ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের কোনো দাবি মানেনি সরকার। তাই এবার সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না দল। এমনকি নির্বাচনের আগে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায়ও অংশ নেবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত