ঢাকা থেকে বরগুনা আসার পথে ঝালকাঠি সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ নামের লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ জন দগ্ধ যাত্রীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হওয়া শিশু তাইফাকে (৮) ঢাকা নেওয়ার পথে বরিশালের কাশীপুর এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়। তাইফা বরগুনা জেলার কেওড়াবুনিয়া এলাকার বশিরের মেয়ে।
এ ঘটনায় শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ৮ জনের মধ্যে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩ শিশুকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ২০ জনের মধ্যে ৬ জনকে এখন পর্যন্ত ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
এরা হলেন- খাদিজা, হনুফা, সপ্না, সাদিয়া, জেসমিন ও মনিকা। পাশাপাশি ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা মারুফা, লামিয়াকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ রওশন আরা।
এ ছাড়া হাসপাতালের পঞ্চম তলায় পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে থাকা পুরুষ ৭জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান হাসপাতালে দগ্ধ রোগীদের দেখতে গিয়ে বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে ৫০ সদস্যের চিকিৎসকের একটি দল বরিশালে আসছে। তারা বরিশালে এসে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন। হাসপাতালের চতুর্থ তলা একটি ওয়ার্ডে দগ্ধ রোগীদের রাখা হবে। তাদের সব ধরনের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডের চিকিৎসক-নার্সরা কাজ করছেন।
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বরিশালে বর্তমানে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত এই ওয়ার্ডটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসা হচ্ছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ত্রুটি নেই। অন্য ওয়ার্ডের চিকিৎসকেরা আহতদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
