শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) একটি ব্যাচের ‘র্যাগ-ডে’তে অনুষ্ঠিত কনসার্টে চেয়ার নেয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি জিনাত আরা ইয়াকুতকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজ দলের অন্য নেতা-নেত্রীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের নেত্রী জিনাত আরা ইয়াকুত সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের ব্যাচের র্যাগ-ডে র কনসার্ট চলছিল। সেখানে হল প্রভোস্ট আঁখি ম্যাম আসলে চেয়ার সংকট হয়, তখন আমি আমাদের ব্যাচের সাবেরী আনোয়ার (কৃষক রত্ন শেখ হাসিনা হলের সভাপতি)র কাছে তার বসে থাকে চেয়ারটা চাই। এতে সে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যায় এবং পরে উজ্জ্বল হোসেন (শেকৃবি ছাত্রলীগের শেরেবাংলা হল সভাপতি), রেদোয়ানুর রহমান (শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক), আসাদুজ্জামান রিদওয়ান (শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক), আকাইদ আলী খান (শাখা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক), আসিফা আক্তার জামিয়া (বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রলীগের সভাপতি) সহ আরও কিছু ছেলেপেলে নিয়ে আসে আমার ওপর চড়াও হয়। সাবেরী আনোয়ার ও উজ্জ্বল হোসেন আমাকে মারধর করে। অন্যরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ রাত সাড়ে ১২টার দিকে কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলে এসে সাবেরী ও জেরিন’র মধ্যে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেন। তবে, জেরিন প্রশাসনের কাছে তার গায়ে হাত তোলার বিচার চান। এ সময় প্রক্টর তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।
রাতে ভুক্তভোগী জেরিন অসুস্থ হলে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেল ৪টায় ছাত্রলীগ নেত্রীকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন করার কথা থাকলেও মানববন্ধনস্থলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলেও শেষ পর্যন্ত আর মানববন্ধন হয়নি। একইসময়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলো এক ঘণ্টা বন্ধ করে রাখা হয়, ফলে হল থেকেই বের হতে পারেনি ছাত্রলীগ নেত্রী জেরিন।
এদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা বলেন, জিনাত আরা ইয়াকুতের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আচরণ করা হয়নি। জাস্ট হলের সভাপতিকে কেন চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তার কারণ জানতে চাওয়া হয়, বরং সে উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রলীগের কৃষক রত্ন শেখ হাসিনা হলের সভাপতি সাবেরী আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে জানান, এটি মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং পূর্ব পরিকল্পিত একটা ঘটনা। কালকের প্রোগ্রামে আমি উপস্থিত ছিলাম প্রথম সারিতে, সে ৩বার এসে শুধু আমার চেয়ার টাই নিয়ে যাচ্ছে। শেষে আমি তাকে বললাম এখানে এত চেয়ার থাকতে আমারটাই কেন লাগবে, এতে সেই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।
ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। ছাত্রলীগ কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। যে দোষী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রীদের আবাসিক হলের মূল গেট বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টগণ জানান, গেট বন্ধ রাখার বিষয়টি জানি না।
সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ জানান, লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
