বড়দিনে মহাকাশের পথে রওনা হচ্ছে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ, যা এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ফরাসি গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (এসা)-র বানানো শক্তিশালী ‘আরিয়ান-৫’ রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি জমাবে মহাকাশে পাঠানো সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপটি।
১৩৮০ কোটি বছর আগে হওয়া বিগ ব্যাং বা মহা-বিস্ফোরণের পর মহাবিশ্ব কীভাবে তৈরি হয়েছিল, কীভাবে তৈরি হয়েছিল প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের তারা, কীভাবে তৈরি হয়েছিল গ্যালাক্সি ও গ্যালাক্সি ক্লাস্টার, তা জানাবে জেমস ওয়েব। খুঁড়ে বের করবে মহাবিশ্বের জন্ম, বিকাশ ও ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস।
তিন দশক আগে একই উদ্দেশ্যে নাসা মহাকাশে পাঠিয়েছিল হাবল স্পেস টেলিস্কোপকে। যা এখনো দাপটে কাজ করে চলেছে মহাকাশে। তবে মহাবিশ্বের ১২০০ কোটি বছরের বেশি ইতিহাস খুঁড়ে দেখার ক্ষমতা নেই হাব্ল টেলিস্কোপের। তাই জেমস ওয়েবকে পাঠানো হচ্ছে।
নাসা জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় উৎক্ষেপণের আধ ঘণ্টা পর খুলে যাবে টেলিস্কোপের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার বিশাল অ্যানটেনা আর টেলিস্কোপকে শক্তি জোগানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুবিশাল সোলার প্যানেল। উৎক্ষেপণের ৬ দিন পর থেকে খুলতে শুরু করবে সানশিল্ড। যা তীব্র সূর্যরশ্মির ঝাপটা আর তাপ থেকে বাঁচাবে টেলিস্কোপটিকে। এই সানশিল্ডগুলো দেখতে একেবারে পিয়ানো অ্যাকর্ডিয়ানের মতো। তত দিনে চাঁদকে পেরিয়ে যাবে জেমস ওয়েব।
উৎক্ষেপণের পর দ্বিতীয় সপ্তাহে টেলিস্কোপের সুবিশাল আয়না খুলে যাবে। তার ৬ মাস পর থেকে কাজে নামবে জেমস ওয়েব।
হাব্ল এখন পর্যবেক্ষণ চালায় দৃশ্যমান আলো ও অতিবেগুনি রশ্মির মতো আলোকতরঙ্গের কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যে। এ ব্যাপারেও হাবলকে টপকে যাবে জেমস ওয়েব। তার পর্যবেক্ষণ চলবে অনেক দূরে পৌঁছানোর অনেক বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি তরঙ্গে।
জেমস ওয়েবকে বসানো হবে পৃথিবী থেকে ১০ লাখ মাইল দূরে।
একটি স্কুল বাসের সমান ওজনের এই টেলিস্কোপ সেখান থেকে প্রদক্ষিণ করবে সূর্যকে। হাব্ল তা করে না। হাব্ল প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীকে। সূর্য থেকে দেখলে জেমস ওয়েব থাকবে পৃথিবীর পেছনে, ল্যাগর্যাঞ্জে ২ পয়েন্টে। পৃথিবীর যেখানে যখন রাত, সেই দিকে। উৎক্ষেপণের পর থেকে জেমস ওয়েবের ল্যাগর্যাঞ্জে ২ পয়েন্টে পৌঁছতে সময় লাগবে এক মাস।
