ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি (মোটর ভেহিক্যাল) অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে এবং আহত ব্যক্তিদের ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা ও রুল চাওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন। এতে নৌ পরিবহন সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ও লঞ্চের মালিক হামজালা শেখকে বিবাদী করা হয়েছে।
এ ছাড়া এই ঘটনা রোধে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিহতদের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুলের আরজি জানানো হয়েছে আবেদনে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে তাৎক্ষণিক দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
গত ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি। রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকার সুগন্ধা নদী অতিক্রম করার সময় লঞ্চটিতে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আগুনে দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একই সঙ্গে ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার দুর্বিপাকে পড়েছে। যে কারণে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের এ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট ইউনুছ আরও বলেন, ‘যাত্রীবাহী একটি বড় লঞ্চে নজিরবিহীন এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হয়েছে আবেদনে।’ কার্যতালিকায় এলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান তিনি।
