১০০ জনের বেশি মুসলমান নারীর ছবি আপলোড দিয়ে তাদের ‘বিক্রি’ করা হচ্ছে— এমন বিজ্ঞাপন দেওয়া ভারতীয় অ্যাপ ‘বুল্লি বাই’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির দুটি রাজ্যের ওই অ্যাপের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে একজন।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, অ্যাপ ডেভেলপার এবং টুইটার হ্যান্ডেলে ছবি ও বিষয়বস্তু শেয়ারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, অ্যাপটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে ২১ বছরের এক ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশের সাইবার সেল। তবে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, ওই যুবক একটি টুইটার অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ‘কনটেন্ট’ আপলোড করেছিল।
বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী সাতেজ ডি পাতিল বলেন, ‘মুম্বাই পুলিশের হাতে বড়সড় তথ্য এসেছে। তবে এই মুহূর্তে আমরা বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারব না। কারণ তা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা সক্রিয়ভাবে অপরাধীদের ধাওয়া করছি এবং তাদের শিগগিরই আইনের সামনে নিয়ে আসব।’
বুল্লি বাই একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ, যা গিটহাব নামে একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অপারেট করা হতো। মামলা হওয়ার পর গিটহাব কর্তৃপক্ষ এর কন্টেন্ট নামিয়ে দিয়েছে।
গত কয়েক মাসের মধ্যে ভারতে মুসলমান নারীদের অনলাইনে ‘নিলাম’ বা ‘বিক্রি’র মতো হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
জুলাই মাসে ‘সুল্লি ডিলস’ নামে একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ৮০ জনেরও বেশি মুসলমান নারীর প্রোফাইল তৈরি করে। তাতে মূলত অনলাইনে ওই নারীদের নিজেদের আপলোড করা ছবি ব্যবহার করা হয় এবং বলা হয় তারা ‘ডিলস অব দ্য ডে’।
বুল্লি বাই কিংবা সুল্লি ডিলস কোন ক্ষেত্রেই, সত্যিকার অর্থে বেচাকেনা ছিল না, কিন্তু এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান নারীদের ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করে তাদের হেয় করা।
সুল্লি শব্দটি একটি মানহানিকর হিন্দি স্ল্যাং যা ভারতের ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো মুসলমান নারীদের ট্রল করার জন্য ব্যবহার করে। বুল্লি শব্দের অর্থ নিন্দনীয়।
বুল্লি বাই অ্যাপে ভারতীয় সাংবাদিক ইসমত আরার নাম ও ছবি ছিল। এ নিয়ে তিনি দিল্লি পুলিশের কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। যৌন হয়রানি ও ধর্মের কারণে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগও আনেন ইসমত।
এ ছাড়া বুল্লি বাই’য়ের তালিকায় থাকা আরেকজন নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বাইয়ের পুলিশ বেশ কয়েকটি টুইটার হ্যান্ডেল এবং অ্যাপের ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছে।
ওই অ্যাপে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, একজন পুরস্কার বিজয়ী বলিউড অভিনেতা এবং এমনকি ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মায়ের নাম ও ছবি দেওয়া হয়েছিল।
এ দিকে সুল্লি ডিলস মামলা দায়ের পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
