তালেবানরা পশ্চিম আফগানিস্তানের দোকান মালিকদের তাদের দোকানে থাকা সব নারী ম্যানিকুইন বা মডেল পুতুলের মাথা কেটে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে। তালেবানদের মতে, মানুষের মূর্তি ইসলামি আইন লঙ্ঘন করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে দোকানদাররা নারী ম্যানিকুইনের প্লাস্টিকের মাথা খুলে ফেলছে।
গত আগস্টে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই তালেবানরা ক্রমবর্ধমানভাবে ইসলামী আইনের কঠোর ব্যাখ্যা আরোপ করছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করছে।
হেরাত শহরের পাপ ও পূণ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান আজিজ রহমান বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা দোকানদারদের নির্দেশ দিয়েছি নারী মূর্তিগুলোর মাথা কেটে ফেলতে, কারণ এটি (ইসলামী) শরিয়া আইনের পরিপন্থী’।
তিনি বলেন, ‘যদি তারা কেবল মাথা ঢেকে রাখে বা পুরো পুতুলটিও লুকিয়ে রাখে তবুও আল্লাহর ফেরেশতা তাদের দোকান বা বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের আশীর্বাদ করবেন না’। শিরশ্ছেদের আদেশের পরও কিছু কাপড় বিক্রেতা প্রথমে প্লাস্টিকের ব্যাগ বা হেডস্কার্ফ দিয়ে ম্যানিকুইনের মাথা ঢেকে প্রতিক্রিয়া জানালে একথা বলেন তিনি।
তালেবানরা এখন পর্যন্ত পুতুল বা মূর্তি নিয়ে কোনো জাতীয় নীতি জারি করেনি। প্রাক্তন এই জঙ্গিদের ইসলামী আইনের কঠোর ব্যাখ্যার অধীনে, মানব মূর্তি চিত্রিত করা নিষিদ্ধ।
১৯৯৬-২০০১ সালে তাদের প্রথম শাসনামলে তালেবানরা দুটি প্রাচীন বুদ্ধ মূর্তি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ক্ষমতা দখলের পর থেকে, তারা বেশ কয়েকটি প্রদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিষিদ্ধ করেছে, নারীদের সরকারী সেক্টরে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারী পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে কাবুল কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, নারীরা দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করার সময় তাদের সঙ্গে কোনও ঘনিষ্ঠ পুরুষ আত্মীয় না থাকলে তাদের সড়ক পরিবহনের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
তালেবানরা মদ বিক্রেতাদের ওপর অভিযান বাড়িয়েছে, মাদকসেবীদের আটক করেছে এবং সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছে।
তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর সাহায্য-নির্ভর আফগানিস্তানের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে।
যাইহোক, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গত সপ্তাহে মানবিক সাহায্যের জন্য মরিয়া আফগানদের কাছে অর্থ সহায়তা পৌঁছাতে মার্কিন-প্রস্তাবিত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তবে তালেবানদের হাতে যাতে এই অর্থ না যায় সে ব্যাপারেও তারা সচেষ্ট। এখনও কোনো দেশ তালেবান সরকারকে স্বীকৃত দেয়নি।
