প্রায় নব্বই বছরের বৃদ্ধা জমেলা। লাঠিতে ভর করে এসেছেন কম্বল নিতে। শীতে যেন হাতগুলো তখনো থরথর করে কাঁপছে। এ সময় হাতে পেলেন বসুন্ধরা গ্রুপের একটি কম্বল। মুহূর্তেই কম্বলটি গায়ে জড়িয়ে নিলেন তিনি। তারপর একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বৃদ্ধা জমেলা।
কম্বল পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এই প্রথম কেউ সহযোগিতা করল বাপু। এর আগে এভাবে ম্যালা শীত গেছে। ছিঁড়ে ক্যাথা, পুরিনা কাপুড়-চুপুড় দিয়ে কুনোমতে শীত তাড়ায়ছি। এই বছরও শীতে অনেক কষ্টে আছুনু। এখন কম্বলডা গায়ে দিয়ে অনেক শান্তি লাগছে। আল্লাহ বসুন্ধরার লোকজনকে ভালো করুক। গরিব মানুষের ভালো করলে আল্লাহ ভালো করবি।'
বুধবার রাজশাহীর দুর্গাপুরে বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় ৮০০ শীতার্তকে কম্বল বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।
মজিরন নেছা থাকেন কুমারখালীর গড়াই নদীর পাড়ের খুপড়ি ঘরে। শারীরিক প্রতিবন্ধী মজিরনের বয়স ৭২ বছর। বুধবার সকাল ৮টায় ক্রাচে ভর দিয়ে তিনি এসেছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা অডিটোরিয়াম মাঠে বসুন্ধরা গ্রুপের কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে।
আবেগে আপ্লুত মজিরন কম্বল হাতে পেয়ে বলেন, 'চরম শীতের এই সময় এই কম্বলই আমার জীবন বাঁচাবে। কম্বল-ডা পায়ে দিয়ে আইড় রাইতি শান্তিতে ঘুমাব।'
দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে এবং কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুস্থ দুই হাজার শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রমের তৃতীয় দিন এখানে ৪৫০ জন অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
একই দিনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ২০০ শীতার্তের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।
শৈত্যপ্রবাহ আর কনকনে শীতের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ৩০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ।
বুধবার বিকেলে নাচোল উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলা প্রাঙ্গণে কালের কন্ঠ শুভ সংঘ’র উদ্যোগে এসব কম্বল বিতরণ করেন প্রধান অতিথি নাচোল পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু।
এদিকে কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন শীতার্ত নারী-পুরুষ। এ সময় তারা বসুন্ধরা গ্রুপের মঙ্গল কামনা করেছেন।
এ ছাড়া নাটোরের রেলস্টেশন এলাকায় ২০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ।
