সিলেটের জকিগঞ্জে সিলমারা ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ার সময় আরিফুল হক ও সাদমান সাকিব নামে ২ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কাজলসার ইউপির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া একই উপজেলার আরেকটি ইউপির একটি কেন্দ্রের ভোট বাক্স ছিনতাই করে পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে।
জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের ৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যার চেয়ে কম ব্যালট পেপার পাঠান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয়সংখ্যক ব্যালট না থাকায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এরপর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোট গ্রহণ চলাকালেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ভোট গ্রহণ শুরুর পর দুপুরের মধ্যেই ৩টি কেন্দ্রে অবশিষ্ট ব্যালট পেপার পৌঁছালেও মরিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবশিষ্ট ব্যালট পৌঁছেনি। ফলে ভোট দিতে পারছিলেন না ভোটাররা। তখন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজে ব্যালট পেপার নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। কেন্দ্রে যাওয়ার পর আরিফুল হকের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থীদের প্রতীকে সিলমারা ১২শ ব্যালট পেপারসহ তাকে আটক করে পুলিশ। চেয়ারম্যান পদের ব্যালট পেপারগুলোর মধ্যে বেশির ভাগে নৌকা প্রতীক এবং অন্য প্রতীকেও কিছু সিল মারা ছিল।
খবর পেয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ওই কেন্দ্রে যান। তারা আরিফুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জালিয়াতিতে সংশ্লিষ্ট আরেক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাদমান সাকিবকেও আটক করেন।
জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ওই ইউপির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
এ দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের গণিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকেরা ৩টি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। ফলে ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদে বুধবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
