রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলছে। গত পাঁচ দিনের মধ্যেই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা হারানোর পাশাপাশি জখমও হয়েছেন তাদের কেউ কেউ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাস এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকারও করেছে। তবে তারা বলেছে, ক্যাম্পাস ঘিরে নিরাপত্তা দেয়াল না থাকা আর প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবেই সবদিক সামাল দিতে পারছে না তারা।
সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরে প্রধান ফটকের সামনেই ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তাছনিমা খানম। এর আগে গত রবিবার আরেক শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন বলে অভিযোগ পায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। তবে সেই শিক্ষার্থীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। গত সোমবার সন্ধ্যায় প্যারিস রোডে ছিনতাইয়ের শিকার হন গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বৃষ্টি। তারও আগে শুক্রবার ছিনতাইয়ের শিকার হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মাইশা জান্নাত।
পরপর এ ঘটনাগুলো ঘটায় এবং এখনো কেউ চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের সেই কর্মসূচি থেকে ‘ছিনতাই চক্রে জড়িত’ উল্লেখ করে প্রক্টর লিয়াকত আলীর পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষও। তারা বলছে, চারদিক খোলা হওয়ায় দুর্বৃত্তরা সহজেই ক্যাম্পাস এলাকায় অপকর্ম করে সটকে পড়তে পারছে। যে কারণে চেষ্টা থাকলেও কিছু করা যাচ্ছে না। প্রক্টর লিয়াকত আলী বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যেন ক্যাম্পাসে আর না ঘটে সেজন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। গত দুদিনে আমরা প্যারিস রোডে ট্রাফিক চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেলগুলো চেকিং করেছি। এতে আমরা বুঝতে পেরেছি বহিরাগতরাই বেশি। বহিরাগত ঠেকাতে আমরা এ চেকিং অভিযান অব্যাহত রাখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। এরই মধ্যে আমরা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে মিটিং করেছি। এখন বহিরাগতদের কোনোভাবেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’ তবে ক্যাম্পাসের অনেক গেট হওয়ায় এবং সে অনুপাতে লোকবল না থাকায় পুরো ক্যাম্পাস তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না বলেও জানান তিনি।
এদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোর কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন মতিহার থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম তুহিন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের ছিনতাইয়ের অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে প্রতিদিন কমবেশি মোবাইল মিসিংয়ের অভিযোগ পাই, সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করি।’
