ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরী মণি মা হতে যাচ্ছেন। পরীমণির সন্তানের বাবা মডেল চিত্রনায়ক শরিফুল রাজ। সোমবার দুপুরে রাজ ফেসবুকে পরীর মা হওয়ার খবর জানান। মা হওয়ার খবর আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পরীমণি ও শরিফুল রাজের বিয়ের খবরও গোপন ছিল। জানা যায়, সিনেমার সেটেই প্রেম। অল্প দিনের মধ্যেই বিয়ে করেন এই তারকা জুটি।
শরিফুল রাজ বলেন, ‘গুনীন সিনেমা করতে গিয়ে পরীমণির সঙ্গে প্রেম এরপর বিয়ে। আমরা গত ১৭ই অক্টোবর বিয়ে করেছি। আমরা সন্তানের বাবা মা হতে যাচ্ছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
এদিকে পরীমণির সন্তানের বাবা শরিফুল রাজকে নিয়ে ক্রমশ বিনোদন প্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে। নানা সংবাদের কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন, শরিফুল রাজ কে? মডেল হিসেবে জনপ্রিয় হলেও চিত্রনায়ক হিসেবে এখনো ততটা পরিচিত লাভ করেননি রাজ। তবে গত বছর ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ওয়েব সিরিজে কাজ করে আলোচনায় এসেছিলেন।
শরিফুল রাজ একাধারে অভিনেতা ও মডেল। র্যাম্প মডেল হিসেবে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন রাজ। এছাড়া, বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে রেদওয়ান রনীর হাত ধরে চলচ্চিত্রে পা রাখেন রাজ। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম আইসক্রিম। চলচ্চিত্রটিতে তিনি নাজিফা তুশির বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। ২০১৯ সালে শরিফুল রাজ অভিনীত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ন ডরাই মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটিতে তিনি সুনেরাহ বিনতে কামালের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন।
রাজ সর্বশেষ গিয়াসউদ্দীন সেলিমের ‘গুণীন’ সিনেমায় কাজ করেন। এই সিনেমাতেই তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন পরীমনি। সেখান থেকেই প্রেম ও বিয়ে।
এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে শরিফুল রাজের আরও তিনটি চলচ্চিত্র। এগুলো হলো, দামাল, পরাণ ও হাওয়া।
দামাল সিনেমার বিষয়ে শরিফুল রাজ দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত রায়হান রাফীর ‘দামাল’ সিনেমায় নতুন প্রজন্মের অনেক চেনামুখ অভিনয় করছেন। আমার সহশিল্পী সিয়াম আহমেদ, বিদ্যা সিনহা মিম, সাঈদ বাবু, রাশেদ মামুন অপু, শাহনাজ সুমী, সামিয়া অথৈ, বৃষ্টিসহ অনেকে। ‘দামাল-এর গল্প মুক্তিযুদ্ধ ও সেই সময়ের স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে ঘিরে। এটি কোনো নায়ক-নায়িকা নির্ভর সিনেমা নয়। এখানে প্রতিটি চরিত্র সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি চরিত্রের আলাদা আলাদা গল্প আছে, পরিণতি আছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এর আগে অনেক ছবি তৈরি হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে ছবিতে মুক্তিযুদ্ধ ও ফুটবল তুলে ধরা হয়নি। এমন একটি গল্পে কাজের সুযোগ পাওয়াটা আমার অভিনয় জীবনে নতুন কিছু যোগ করবে। আমাদের ১৯৭১-এ মফস্বলের তরুণদের লুকে দেখা যাবে।
অন্য দুটি সিনেমা নিয়ে শরিফুল রাজ জানিয়েছেন, ‘মুক্তির অপেক্ষায় আছে রায়হান রাফির ‘পরাণ’ ও মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’। ‘পরাণ’ নিয়ে যে গুঞ্জন আছে সেটি সত্য নয়। এটি কারও জীবনী নয়। তবে একটি ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গল্প তৈরি হয়েছে। এখানেও আমার সহশিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম। আরও আছেন ইয়াশ রোহান। আর ‘হাওয়া’ সিনেমায় আমার সহশিল্পী নাজিফা তুষি। আমরা একসঙ্গে সিনেমা ক্যারিয়ার শুরু করি রেদোয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ সিনেমা দিয়ে। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াও খুব ভালো। ‘হাওয়া’ একেবারে প্রান্তিক মানুষের গল্প।’
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে রাজ বলেন, ‘আমি নিজের অভিনয়ে বরাবরই অসন্তুষ্ট। মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আইসক্রিম’, ‘ন ডরাই’ কিংবা মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ দেখে মনে হয়েছে আরও ভালো অভিনয় করা যেত। অভিনয়ের জার্নি মাত্র ৪ বছরের। তাছাড়া অনেকে বলে মডেল থেকে আসা অভিনয়শিল্পী ভালো অভিনয় করে না। আমি সেই প্রতিবন্ধকতা জয় করতে চাই। কাজ করে করে শিখছি। প্রথম সিনেমা করতে গিয়েই টের পাই এই কাজটিই আমি সবচেয়ে ভালোবাসি, এটাই করতে হবে। এরপর থেকে সিনেমা নির্বাচন বা অভিনয় সবকিছুতেই খুব খুঁতখুঁতে। ভালো মানের কাজ ছাড়া করতেই চাই না। প্রতিটি চরিত্রে ঢুকতে আমার অনেক সময় লাগে। সেই সময়টা আমি দিই। এজন্য কাজের পরিমাণও কম। তবে যখন বিশেষ ব্যক্তিরা বা পত্রপত্রিকায় অভিনয় নিয়ে ভালো কিছু লেখা দেখি তখন খুব আনন্দ লাগে।’
