মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুরের পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় বাঁশ কাটতে গেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পাঁচ বাংলাদেশিকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবার সদস্য ও গ্রামবাসী তাদের রাতে তাদের উদ্ধার করে বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই পাঁচ বাংলাদেশি হলেন, কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব কাঁঠালকান্দি গ্রামের আলিক মিয়া, হাবিব মিয়া, আহাদ মিয়া, আফজাল মিয়া ও নজির মিয়া। আফজাল ও নজির মিয়ার অবস্থা গুরুতর বলে পরিবার সদস্যরা দাবি করেন।
পূর্ব কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া অভিযোগ করে জানান, গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আদমপুরের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা থেকে বাঁশ কাটতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা এ গ্রামের তিনিসহ চারজনকে ধরে বেধড়কভাবে পেটায়। সন্ধ্যার পরে তাদের বাংলাদেশের নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় ফেলে যায়। তাদের পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী রাতে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। তবে আফজাল ও নজিরের অবস্থা গুরুতর বলেও জানান তিনি।
এ দিকে বুধবার সকালে উপজেলার ইসলামপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ওয়াশিম, সাজু, মোস্তাকিম, আফরোজ, ময়নুল, হারুন, শফিক ও আরিফ নামের আরো আট বাংলাদেশিকে বিএসএফ সদস্যরা ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে দু’ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তাদের সবার বাড়িও আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব কাঁঠালকান্দি গ্রামে।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের হাতে নির্যাতনের শিকার এক ব্যক্তি এসে তাকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। বুধবার সকালে আরো আটজনকে ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিএসএফ ছেড়ে দেয়।’
এ ঘটনা সম্পর্কে শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ নম্বর বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, ‘শুনেছি পাহাড়ি নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় বাঁশ কাটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভারতের অংশে বাংলাদেশিরা প্রবেশ করেছিল। তখন বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের ধাওয়া করেছে। কাউকে মারধর করার বা ধরে নেয়ার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারপরও বিজিবি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।’
