শিক্ষা কর্মকর্তার ১৩ পদের ১০টি শূন্য

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০২ এএম

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ১৩টি পদের মধ্যে ১০টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কর্মকর্তার অভাবে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে না। এতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। শূন্য পদে কর্মকর্তার পদায়ন চেয়ে একাধিকবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে তিনজন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে আবার একজন কর্মকর্তা চিকিৎসাজনিত ছুটিতে রয়েছেন। তাই দুজন দিয়েই চলছে শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম। এ ছাড়া উপজেলার ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫০টি প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে প্রাথমিকের ৬৫ হাজার ৫২৬ শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, একজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাধারণত একটি ক্লাস্টারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন, যেখানে তাকে ২০ থেকে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখভাল করতে হয়। কিন্তু কর্মকর্তার অভাবে বর্তমানে একজন কর্মকর্তাকে ক্লাস্টারের অধীনে ১৫১টি স্কুল দেখভাল করতে হচ্ছে। এতে  কর্মকর্তারা রাতদিন পরিশ্রম করে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ কেউ অসুস্থ হওয়ার কথাও বলছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার সভাপতি শামছু্িদ্দন বলেন, ‘সদর উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তাদের অভাবে কর্মরতরা দিনরাত কষ্ট করে দাপ্তরিক কাজ করছেন। শূন্যপদে কর্মকর্তাগণ যোগদান করলে বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ দাপ্তরিক কাজ আরও গতিশীল হবে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফরিদ আহাম্মেদ বলেন, ‘১০টি পদ শূন্য থাকায় কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। যথাসময়ে তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করতে বেগ পেতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও বিদ্যালয় পরিদর্শনে বিঘœ ঘটে।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, ‘পদগুলো পূরণের জন্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করি পদগুলো পূরণ হলে বর্তমানে যে সমস্যা রয়েছে তা দূর হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত