পেটভর্তি প্লাস্টিক নিয়ে ক্ষুধায় মরছে হাতি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১:২৬ পিএম

শ্রীলঙ্কায় হাতিকে বেশ সম্মান করা হয়। হাতি হত্যার জন্য আছে কঠোর সাজার ব্যবস্থাও। কিন্তু বাসস্থান ও স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস হারানোয় শ্রীলঙ্কার হাতিরা দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। তারা প্রায়ই খাবারের খোঁজে মানববসতির কাছাকাছি চলে আসছে। এতে চোরাশিকারি ছাড়াও ফসলের ক্ষতি করায় ক্ষুব্ধ কৃষকদের হাতেও প্রাণ হারাচ্ছে অনেক হাতি। এর মধ্যেই জানা গেল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি উন্মুক্ত ভাগাড়ের প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে মারা যাচ্ছে একের পর এক হাতি। চলতি সপ্তাহেও ওই অঞ্চলে দুটি হাতির মরদেহ পাওয়া গেছে। দেশটির পরিবেশবাদী ও পশুচিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত আট বছরে দেশটির আম্পারা জেলার পাল্লাকাড়ু গ্রামে ময়লার ভাগাড় থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে অন্তত ২০টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

বন্য প্রাণী চিকিৎসক নিহাল পুষ্পকুমারা বলেছেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে, মৃত প্রাণীগুলো আবর্জনার স্তূপে পাওয়া প্রচুর পরিমাণে অপচনশীল প্লাস্টিক খেয়েছিল। তাদের ময়নাতদন্তে কেবল পলিথিন, খাবারের মোড়ক, প্লাস্টিকসহ অন্য অপচনীয় পদার্থ ও পানি পাওয়া গেছে। হাতিরা স্বাভাবিক যে খাবার খায় ও হজম করে, তার কোনো চিহ্নই ছিল না।

তিনি বলেন, ‘হাতিগুলো প্লাস্টিক খাওয়ার পর একসময় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ধীরে ধীরে এত দুর্বল হয়ে পড়ে যে ভারী শরীর আর বহনের ক্ষমতা থাকে না। এ অবস্থায় তারা আর খাবার বা পানি গ্রহণ করতে পারে না, যা তাদের দ্রুত মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শ্রীলঙ্কাজুড়ে বন্য প্রাণী এলাকাগুলোয় অন্তত ৫৪টি ময়লার ভাগাড় রয়েছে, যার আশপাশে তিন শতাধিক হাতি ঘোরাফেরা করে।

২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় পাল্লাকাড়ু গ্রামে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনা তৈরি হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী নয়টি গ্রামের ময়লা সেখানে জমা হয়, কিন্তু সেগুলো কখনোই রিসাইকেল করা হয়নি। ২০১৪ সালে বজ্রপাতে স্থাপনাটির চারদিক ঘিরে রাখা বৈদ্যুতিক বেড়া নষ্ট হয়ে যায়। সেটি আজও সারায়নি কর্র্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ২০১৭ সালে দেশটির সরকার বন্য প্রাণী এলাকাগুলোর ভাগাড়ের ময়লা রিসাইকেল (পুনর্ব্যবহার) করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা-ও বাস্তবায়ন হয়নি।

শ্রীলঙ্কার সরকারি হিসাবে দেশটিতে এখন হাতির সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি। অথচ ১০০ বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল অন্তত ১৪ হাজারের ওপরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত