সামনের সিরিজগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং : মুমিনুল

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৭ এএম

এর আগে টেস্ট খেলে এতটা স্বস্তি নিয়ে দেশে ফেরা হয়নি। এবার কেমন লাগছে?

মুমিনুল হক : ক্রিকেট খেলায় স্বস্তি বলতে কিছু নেই। কোনো সময় ভালো খেলবেন, কোনো সময় খারাপ। কোনো সময় প্রক্রিয়া ঠিক থাকবে, কোনো সময় থাকবে না। এটা ভালো যে আমরা একটা ম্যাচ জিতেছি। তবে শেষ ম্যাচে যেভাবে খেলেছি একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি খুব একটা খুশি না। আমাদের দ্বিতীয় টেস্টটা আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।

যা গত এক দশকে এশিয়ার কোনো দল করতে পারেনি, আপনারা করলেন। কীভাবে?

মুমিনুল হক : কোনো কারিশমা না, কোনো জাদুমন্ত্র ছিল না। আমরা আমাদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা যে জায়গাটা উন্নতি করা দরকার সে জায়গাটা চেষ্টা করছি অনেকদিন ধরে। দল হিসেবে ভালো খেলার, বাংলাদেশ দল তখনই ভালো করে যখন সবাই পারফর্ম করে। একজন দুজন ভালো করলে বাংলাদেশ দল ভালো করে না, বিশেষ করে টেস্টে। এখানে আমরা তখনই ভালো করি যখন ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আমরা দল হিসেবে ভালো করি।

এখন কি দেশে বাউন্সি উইকেট, স্পোর্টিং উইকেটের গুরুত্ব আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন?

মুমিনুল হক : এটা অবশ্যই তো দরকার। তবে শুধু উইকেট বা এসবের অজুহাত দিলে হবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশে খেলতে গেলে মানসিকতাই হলো গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভাবি যে নিউজিল্যান্ডে যাব কী না কী হয়, আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেব, এভাবে হলে হবে না। ওখানে হয়তো আপনার শরীরী ভাষা আশাবাদী হতে হবে। দিন শেষে আপনার মানসিকতার ওপরই নির্ভর করে বিদেশের মাটিতে আপনি কেমন খেলবেন।

সিনিয়রদের ছাড়া জয়, এখন কি আত্মবিশ্বাস দেবে যে যেকোনো দল নিয়ে বিদেশে জেতা সম্ভব?

মুমিনুল হক : একটা টেস্ট ম্যাচ গিয়েছে, জুনিয়ররা সবাই পারফর্ম করেছে। একটা ম্যাচ দিয়ে সবকিছু বিচার করাটাও কঠিন। আমার কাছে মনে হয় আপনি সবাই মিলে খেলেন অথবা যারা সিনিয়র তারাও খেলুক, আমরাও খেলি, যারা জুনিয়র তারাও খেলুক কিন্তু আপনি দিন শেষে দল হিসেবে খেলতে না পারলে ফল আনা কঠিন। আমি এখন বেশি চিন্তিত পরবর্তী সিরিজগুলো নিয়ে। কারণ সামনের সিরিজগুলো ভালো ভালো দলের সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ আছে। ঐ সিরিজগুলো আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। আমাদের হয়তো অনেক বেশি জায়গা আছে উন্নতির, একটা টেস্ট জিতলাম তা নিয়ে খুশি থাকলাম, অনেক ওপরে উঠে গেলাম তা না। আমাদের পা মাটিতেই থাকবে। দিনে দিনে অনেক উন্নতি করতে হবে।

করোনায় টানা বায়ো-বাবল, নিউজিল্যান্ডে গিয়ে কোয়ারেন্টাইন জটিলতা, এরপরও এমন ফল...

মুমিনুল হক : আমার কাছে মনে হয় জিনিসটা আপনি কীভাবে নেবেন তার ওপর নির্ভর করছে। করোনার যে অবস্থা অর্ধেকের বেশি মানুষ খেতে পারছে না। অনেকে খেলতেও পারছে না। অন্তত আমি তো ভাগ্যবান যে আলহামদুলিল্লাহ খেলতে পারছি। আমাদের দলের রেজাল্ট করার জন্য আমার তো মনে হয় কোয়ারেন্টাইন আশীর্বাদ হয়ে আসছে। কোয়ারেন্টাইনে যখন আমরা ১১ দিন ভেতরে ছিলাম এরপর বের হলাম তখন একসঙ্গে কাজ করেছি। একসঙ্গে কাজ করার কারণে টিম বিল্ডআপটা হয়েছে। আর দলে সুজন ভাইয়ের একটা ভালো ভূমিকা ছিল, মুশফিক ভাইয়েরও সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত