বাউফল সরকারি কলেজ

পরীক্ষার ফি, শিক্ষক সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৪৭ পিএম

বাউফল সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি ও শিক্ষকদের সম্মানীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষকদের মাত্র ১৩৭ টাকা সম্মানী ভাতা দেখিয়ে কেন্দ্র ফির বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষকরা সঠিকভাবে কেন্দ্র ফি খরচ ও সম্মানী ভাতা বণ্টনের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষকদের কোনো প্রকার আপ্যায়ন করানো হয়নি। অথচ আপ্যায়ন বিল দেখানো হয়েছে ৬০ হাজার ৬১৫ টাকা। কেন্দ্র ও ভেন্যু কেন্দ্রের মধ্যে দূরত্ব মাত্র আড়াইশ মিটার। দুই কেন্দ্রে আসা-যাওয়ার রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা, অথচ অভ্যন্তরীণ যাতায়াত বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ৫৪০ টাকা।

বাউফল সরকারি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা গত ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ ডিসেম্বর। ২৪ শিফটের পরীক্ষায় ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ, কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজ ও বাউফল সরকারি কলেজের ১ হাজার ২৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৭০ টাকা করে কেন্দ্র ফি বাবদ ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯১০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ওই বরাদ্দ থেকে ১৩৭ টাকা করে কক্ষ পরিদর্শক বাবদ ৬৬ হাজার ৫৪২ টাকা ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৭০ টাকা করে ৯ হাজার ১০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। বাকি টাকা ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘ফটোকপি বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২০ হাজার ৪৯০ টাকা। সব মিলিয়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি ফটোকপি করা হয়নি। আর অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়নি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কক্ষ পরিদর্শক বলেন, ‘পরীক্ষার সময় চা-পান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ব্যবস্থা করা হয়নি। অথচ আপ্যায়ন বিল বাবদ দেখানো হয়েছে ৬০ হাজার ৬১৫ টাকা।’

আরও কয়েকজন কক্ষ পরিদর্শক বলেন, তাদের ১৩৭ টাকা সম্মানী ভাতা দিয়ে অসম্মান করা হয়েছে। এ কারণে তারা ওই টাকা গ্রহণ না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কালিশুরী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শকদের দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে সম্মানী দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অধ্যাপক আবুল বশার তালুকদার বলেন, ‘সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী কেন্দ্র ফির টাকা ব্যয় করা হয়েছে।’ আপ্যায়ন খরচের বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় করেছি এবং তাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ‘শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত