মনিহারি, চা-দোকানেও পেট্রল এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০১:২৪ এএম

খুলনা নগরীতে অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার ও পেট্রল। যত্রতত্র দাহ্যপদার্থ বিক্রির বিধান না থাকলেও নগরীর পাড়া-মহল্লার অলিগতিতে, বিভিন্ন মনোহারি দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার। সেই সঙ্গে হাতের নাগালেই মিলছে বোতলভর্তি পেট্রল ও অকটেন। এভাবে যত্রতত্র দাহ্যপদার্র্থ বিক্রির কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রল, মবিল বিক্রির জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধা পাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী এসব শর্ত পূরণ করলেই কেবল পেট্রলজাতীয় দাহ্যপদার্থ বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। এলপিজি সিলিন্ডার ও পেট্রল বিক্রির জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট, টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নেই।

খুলনা বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্র জানায়, খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে একজন বিক্রেতা সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখতে পারবেন। পেট্রল বা ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার লিটার পর্যন্ত মজুদ করতে পারবেন। তবে আবাসিক এলাকায় মুজদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খুলনা জেলায় বিস্ফোরক লাইসেন্স গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ৬৫০টি। লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন ১৫০টির মতো।

সরেজমিনে খুলনার সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, নিরালা, জোড়াগেট সিএনবি কলোনি, রূপসা, বয়রা, বাস্তুহারা, বৈকালী, খালিশপুর, দৌলতপুর, মানিকতলা, লবণচরা, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমণি, আটরা ও ফুলতলা এলাকায় দেখা গেছে, বাজারঘাট, মুদিদোকান, ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকান, ফটোকপির দোকান, চায়ের দোকানসহ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলিগলি, পাড়া-মহল্লার হাটে-বাজারে দেদার এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পেট্রলপাম্প থাকলেও বিভিন্ন সড়কের মোড়ে বা নির্দিষ্ট দোকানে এক লিটার কিংবা আধা লিটারের প্লাস্টিকের বোতলে বিক্রি হচ্ছে পেট্রল বা ডিজেল। যে কেউ ইচ্ছা করলেই সেগুলো কিনতে পারছেন।

নগরীর শিরোমণি এলাকার গ্যাস ব্যবসায়ী (ডিলার) শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছ থেকে অনেক ছোট  দোকানদার তাদের প্রয়োজনের জন্য ৪-৫টি করে সিলিন্ডার কিনে নিয়ে যান। পরে দেখি তারা আবার সেগুলো বিক্রি করছেন। আমি যেহেতু ডিলার তাই বিক্রি করতে বাধ্য।’

লবণচরা এলাকায় বোতলে করে পেট্রল বিক্রি করেন হাফিজুর রহমান। এ কাজে তার কোনো লাইন্সেস নেই। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষের উপকার হয় তাই এভাবে বিক্রি করি।’

খুলনার বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স পরিদর্শক নাজমুল হুদা বলেন, দাহ্যপদার্থ, গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রল-ডিজেলের ব্যবসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ফায়ার লাইসেন্স নিতে হবে। যত্রতত্র এলপি গ্যাস, পেট্রল বা দাহ্যপদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকা-সহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।’

খুলনা বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ব্যবসায় লাভ বেশি। তাই অনুমোদন ছাড়াই অনেকে এ ব্যবসায় নেমে পড়েছেন।’

খুলনা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের পরিদর্শক রিফাত-ই-আশরাফ বলেন, ‘নির্ধারিত গ্যাস কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রি বাড়ানোর জন্য যেকোনো দোকানে গ্যাস সরবরাহ করে। তবে গ্যাস সরবরাহের আগে বিস্ফোরক লাইসেন্স আছে কি না, দেখে নেওয়া উচিত। বিনা লাইসেন্সে কোনো প্রতিষ্ঠান যেন এলপিজি বা দাহ্যপদার্থ বিক্রি করতে না পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত এলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা জেলায় আমরা প্রতিনিয়তই মনিটরিং করি। তবে জনবল আর পরিবহন সংকট থাকায় বিভাগের অন্য জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মনিটরিং যথাযথ হয়ে ওঠে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত