অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনে কেটে ফেলা হলো গৃহবধূর মলদ্বারের নাড়ি

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১০:০৮ পিএম

ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ (বিএসএমএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক গৃহবধূকে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হলে তার অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনের সময় মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অসুস্থ ওই গৃহবধূ বর্তমানে বিএসএমএমসি হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলায় নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূর স্বামী রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার নিমতলার বাসিন্দা ইটভাটার দিনমজুর মো. আব্দুল মান্নান ব্যাপারী।

অভিযোগে তিনি বলেন, তার স্ত্রী হাসনা বেগম (৩৩) পেটে ব্যথাজনিত অসুস্থতার কারণে গত ২২ ডিসেম্বর ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে গাইনি চিকিৎসকের কাছে যান। তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. উৎপল নাগের কাছে রেফার করা হয়। ডা. উৎপল নাগ তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অ্যাপেন্ডিক্স হয়েছে বলে জানান এবং দ্রুত অপারেশন না করলে রোগী বাঁচানো যাবে না বলে মত দেন।

মান্নান ব্যাপারী অভিযোগ করেন, ডা. নাগ এ সময় বিএসএমএমসি হাসপাতালে অপারেশন করাতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং এ সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই বলে তাদের জানান। এরপর ওই ডাক্তার তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তাদের শহরের রথখোলায় পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের নিকট অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং একটু পরেই তিনি ওই হাসপাতালে যাবেন বলে জানান।

অসুস্থ ওই রোগীর বাবা হাশেম মল্লিক জানান, ডা. উৎপল নাগের কথামতো এরপর তার মেয়ে হাসনাকে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়ার পর তিনটি পরীক্ষা করা হয় ২৬ শ টাকায়। তারপর সেদিন সন্ধ্যায় তার অপারেশন করা হবে বলে জানানো হয়।

স্বামী জানান, সব মিলিয়ে ২৬ হাজার টাকা খরচে তার স্ত্রীর অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করা হয়। অপারেশনের চার দিন পর হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার সময় হাসনা বেগমের অপারেশনের সেলাই কেটে ড্রেসিং করার সময় মল দ্বার দিয়ে মল বের হতে থাকে। বিষয়টি ডা. উৎপল নাগকে জানানোর পর তিনি আবারো অপারেশন করার কথা বলেন এবং সে জন্য আরো এক লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। এরপর অসুস্থ অবস্থায় হাসনা বেগমকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, ডা. উৎপল নাগ আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকার নেশায় আমার স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে ভুল বুঝিয়ে তার প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে যান এবং অদক্ষ ডাক্তার অথবা নার্স দিয়ে অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করার সময়  মলনালি কেটে ফেলেছেন।

হাসনা বেগম ও মান্নান ব্যাপারী দম্পতির তিনটি মেয়ে রয়েছে। দরিদ্র এই পরিবার চিকিৎসা ব্যয় জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়া মাসাধিককাল স্ত্রীর চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় মান্নান ব্যাপারীও কর্মহীন।

তারা জানান, এখন কীভাবে অসুস্থ হাসনা বেগমের চিকিৎসা চালাবেন তা বুঝতে পারছেন না। অসুস্থ হাসনার দশা দিনে দিনে শীর্ণকায় হচ্ছে। পরিবার তার ওষুধ পথ্য জোগাতে পারছে না।

এ ব্যাপারে জানতে ডা. উৎপল নাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিএসএমএমসি হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে হাসনা বেগমকে অপারেশনের পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

একই সঙ্গে অসুস্থ হাসনা বেগমকে পুনরায় অপারেশন করাতে এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেন।

ডা. উৎপল নাগ এ ব্যাপারে বলেন, ওই রোগীর অ্যাপেন্ডিক্স পেকে গিয়েছিল। সৃষ্টিকর্তা তার হাত দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা কী কারণে এসব অভিযোগ করছে তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

বিএসএমএমসি হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ওই রোগীর খোঁজখবর নিয়েছি। তার চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হবে না।

তিনি বলেন, সার্জারি ডা. উৎপল নাগ এর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত